kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

১৫ জন নারী প্রার্থীর সাতজন উচ্চশিক্ষিত

কাজী হাফিজ   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



১৫ জন নারী প্রার্থীর সাতজন উচ্চশিক্ষিত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে যে ১৫ জন নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁদের মধ্যে সাতজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এই সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে পেশায় দুজন আইনজীবী, দুজন শিক্ষক। অন্যরা স্বশিক্ষিত, এসএসসি পাস এবং অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দুজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। এসব প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আরো জানা যায়, কোটি টাকার ওপর সম্পদ রয়েছে দুজনের। একজনের নগদ বা ব্যাংকে কোনো টাকা নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ডে লড়ছেন ছয়জন নারী প্রার্থী। এর মধ্যে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন দুজন। এ ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলেয়া সারওয়ার ডেইজী বর্তমানে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুসারে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।  পেশা গৃহিণী। অতীত বা বর্তমানে কোনো মামলা নেই। বছরে আয় ২৪ লাখ টাকা। ব্যাংকে আমানত ৩৪ লাখ টাকা। স্বামীর বার্ষিক বেতন ৩৪ লাখ টাকা। নগদ টাকা এক লাখ, আর সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৩৪ লাখ টাকার। এ ছাড়া ১০ ভরি স্বর্ণ, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৫০ হাজার টাকার তৈজসপত্র রয়েছে।

একই ওয়ার্ডের আরেক স্বশিক্ষিত নারী প্রার্থী হাসিনা মোরশেদ কাকুলীর রয়েছে সেলুন ব্যবসা। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতীতেও ছিল না। বছরে তাঁর আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। নগদ টাকা রয়েছে পাঁচ হাজার। স্বর্ণ নেই। আসবাব আছে দেড় লাখ টাকার; আর ২৪ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি আছে।

উত্তরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন হুমায়রা বাচ্চু। স্নাতক এই প্রার্থী একজন নারী উদ্যোক্তা। একসময় সংবাদ পাঠক ছিলেন। মামলা নেই। তাঁর ব্যাংকে বা নগদ টাকা নেই। ১০ ভরি স্বর্ণ ও যৌথ মালিকানায় পৌনে ৩ কাঠা জমির ওপর সাড়ে চারতলা বাড়ি ও তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার  এস এম সীমার স্থায়ী ঠিকানা মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে। পেশায় তৈরি পোশাক (ডিজাইনড) বিক্রেতা। বছরে আয় বাড়ি ভাড়া থেকে এক লাখ ৪০ হাজার এবং ব্যবসা থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে দেড় লাখ। ১২ আসনের একটি মাইক্রোবাসের মালিক তিনি। অকৃষি জমি আছে আড়াই কাঠা। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ফৌজদারি মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন।

৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফেরদৌসী আহমেদ স্নাতক পাস। তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা বিচারাধীন। নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার, স্বর্ণ ২০ ভরি আর ব্যাংকে রয়েছে আড়াই লাখ টাকা। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাজেদা আলী হেলেন অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। ডিশ এন্টেনা ব্যবসা আছে। কোনো মামলা নেই। ব্যবসা থেকে তাঁর বছরে আয় তিন লাখ টাকা, স্বামীর আয় আড়াই লাখ টাকা। কৃষিজমি থেকে তাঁদের আয় বছরে ৪০ হাজার টাকা। নগদ আছে নিজের ও স্বামীর তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে আছে দুজনের ৮৭ হাজার টাকা। আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে দেড় লাখ টাকার। ১.৪০ একর কৃষি ও ০.২৫ একর অকৃষি জমি রয়েছে। 

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাধারণ আসনে পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন ৯ জন। এঁদের মধ্যে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখী বরখাস্ত হওয়া কাউন্সিলর এ কে এম মোমিনুল হক সাঈদের স্ত্রী। তাঁর স্বামীও ওই ওয়ার্ডের প্রার্থী। হলফনামায় ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীর বর্তমান ঠিকানা ‘বঙ্গভবন স্টাফ কোয়ার্টার’ উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। বুটিক ব্যবসা থেকে তাঁর  বছরে আয় তিন লাখ ৫২ হাজার ২৫১ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক থেকে সুদ পান ৪৭ হাজার ৭৪৯ টাকা। নগদ আছে চার লাখ ৮০ হাজার ৭০২ টাকা। ব্যাংকে রয়েছে ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৫ টাকা। এ ছাড়া দুই লাখ টাকার প্রাইজ বন্ড, ৫০ ভরি অলংকার ও তিন লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহিদা মোরশেদ এসএসসি পাস।  কোনো মামলা নেই। বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর বছরে আয় ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮২ টাকা। নগদ রয়েছে আট লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মেহেরুন্নেছা অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে তাঁর বছরে আয় পাঁচ লাখ টাকা। আর স্বামীর আয় ২৯ লাখ ২৯ হাজার ৮২০ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে আছে দুই লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হেলেনা আক্তার। হলফনামায় নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন গৃহকর্ম ও সমাজসেবক। বাড়ি ভাড়া থেকে বছরে আয় এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন সাহানা আক্তার। শিক্ষা এলএলএম। পেশায় আইনজীবী এ প্রার্থীর নামে কোনো মামলা নেই। বাড়ি ভাড়া থেকে বছরে আয় পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ টাকা। নিজের নামে নগদ ও ব্যাংকে রয়েছে ১৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ১০ ভরি অলংকার রয়েছে। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন দুজন নারী। এঁদের একজন নাজমুন আরা হোসেন বিএ পাস। এই প্রার্থীর নামে কোনো মামলা নেই।  পেশা শিক্ষকতা। বছরে আয় দেড় লাখ টাকা। ব্যাংকে বা নগদ কোনো টাকা নেই। ২০ ভরি অলংকার আছে। স্বামীর বাড়ি আছে। অন্যজন শামীমা শারমীন। বিএ পাস এই প্রার্থীর নামে কোনো মামলা নেই। বাড়ি ভাড়া থেকে বছরে আয় তিন লাখ ৪২ হাজার টাকা। এ ছাড়া টিউশনি করে বছরে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা আয় করেন। নগদ ও ব্যাংকে আছে ৩১ হাজার ৭৪৬ টাকা। স্বামীর মোটরসাইকেল ও গাড়ি এবং ব্যাংকে আলাদা টাকা রয়েছে। ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন মাহমুদা ফেরদৌস। শিক্ষা বিএ,  এলএলবি। পেশায় আইনজীবী এই প্রার্থীর বছরে আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে আছে আড়াই লাখ টাকা। ২০ ভরি স্বর্ণ ও স্বামীর ফ্ল্যাট আছে। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সোনিয়া হোসেনের শিক্ষা নবম শ্রেণি। মামলা নেই। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর বছরে আয় তিন লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। নগদ রয়েছে পাঁচ লাখ টাকার কাছাকাছি। শেয়ার/সঞ্চয়পত্র রয়েছে তিন লাখ টাকার। স্বর্ণ রয়েছে ৫০ ভরি। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে ছয় লাখ টাকার কাছাকাছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা