kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বুড়িগঙ্গা রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশ

২৩১ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে

পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৩১ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে

বুড়িগঙ্গা নদীদূষণে জড়িত এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য সংশোধনাগার ছাড়া চলমান ২৩১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর ওই সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও ডিপিডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করতে সহযোগিতা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকার জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে। এই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেন।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর শুনানির ধারাবাহিকতায় ওই আদেশ দেন আদালত। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই চলমান ২৩১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন দাখিলের পর তার ভিত্তিতে আদালত আদেশ দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ঢাকা ওয়াসার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা। আর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনুৎসির রহমান রায়হান। 

আদেশে বলা হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১২(১) ধারা অনুযায়ী, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এমনকি শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো প্রকল্পও গ্রহণ করা যাবে না। ১২(২) ধারা অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হবে।

আদালতের আদেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের দাখিল করা তালিকার ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে আরো যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে, তাও চিহ্নিত করে বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে আর কোনো প্রতিষ্ঠান থাকলে এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তিন মাসের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরকে।

এ ছাড়া বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পারে (কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায়) যেসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নদীতে পড়ছে সেসব পতিত লাইন উৎসস্থানেই অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বুড়িগঙ্গায় ফেলা বর্জ্য অপসারণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও এসপি, কেরানীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং থানার ওসিকে। ওই কাজের খরচ ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা যাবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরপিবির করা রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া নদীর পানি যাতে দূষিত না হয় সে জন্য সব ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা নদীর পানিকে দূষিত করছে। এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনা হয় বিষয়টি। এরই ধারাবাহিকতায় আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা