kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন

ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়ছে বিমান দুর্ঘটনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়ছে বিমান দুর্ঘটনায়

আকাশপথে দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের কারণে ক্ষতিপূরণ বেড়ে এক কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৩৪ টাকা বা এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৪ ডলার হচ্ছে। এমন বিধান রেখে আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিয়ল কনভেনশন) আইন-২০২০-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, বৈঠকে এ ছাড়া আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন-২০২০, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০২০ ও বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০২০-এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের কোনো যাত্রী বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেলে বা গুরুতর আহত হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মতো পায়। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মন্ট্রিয়ল কনভেনশন অনুযায়ী আকাশপথে দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী মারা গেলে কোটি টাকার বেশি পায়।

বাংলাদেশ মন্ট্রিয়ল কনভেনশনের অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হলেও এসংক্রান্ত আইন না থাকায় সংশ্লিষ্টরা কম ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া খসড়াটি আইনে রূপান্তর হলে বাংলাদেশের আকাশপথের যাত্রীরাও দুর্ঘটনায় পড়লে আন্তর্জাতিক মানের অঙ্কে ক্ষতিপূরণ পাবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরো জানান, আকাশপথসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়বে। যেমন ফ্লাইট বিলম্বের কারণে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যাত্রী ২০ ডলার করে ক্ষতিপূরণ পায়। নতুন আইন হলে এ ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ৭৩৪ ডলার; লাগেজ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে প্রতি কেজির জন্য বিদ্যমান ২০ ডলার জরিমানা বেড়ে দাঁড়াবে এক হাজার ৩৮১ ডলার।

ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিদ্যমান আইনের চারটি সীমাবদ্ধতা দূর করতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমত, নির্ধারিত সময়ে এজেন্সির নিবন্ধন নবায়ন করতে না পারলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। প্রস্তাবিত আইনে জরিমানা দিয়ে নিবন্ধন নবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান আইন অনুযায়ী এজেন্সির মালিকানা বদল করা যায় না। নতুন আইন হলে এজেন্সির মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে। তৃতীয়ত, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের জরিমানার ক্ষমতা ছিল না, এ ক্ষেত্রে জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থত, বিদ্যমান আইনের বাধার কারণে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো কোনো শাখা খুলতে পারে না। এই বাধা উঠিয়ে নতুন আইনে এজেন্সিগুলোকে শাখা খোলার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

গতকালের মন্ত্রিসভায় এর বাইরে ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া দিবস উদ্যাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব সব গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা না থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্ত্রিসভার ৯৭ সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত ৭৩টি : গতকালের বৈঠকে সরকারের গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠক সম্পর্কিত কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত তিন মাসে ৯টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৯৭টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৩টি। বাকি ২৪টি বাস্তবায়নাধীন। ওই সময়ের মধ্যে দুটি নীতি ও কর্মকৌশল, পাঁচটি চুক্তি-সমঝোতা স্মারক এবং সংসদে তিনটি আইন পাস হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা