kalerkantho

সোমবার । ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রংপুরে নিহত ব্যবসায়ীর স্বজনদের অভিযোগ

অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ বলেই সময়মতো সহায়তা মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ বলেই সময়মতো সহায়তা মেলেনি

অপহরণের ৯ দিন পর ঢাকা থেকে রংপুরে আসা ব্যবসায়ী তোশারফ হোসেন পপির লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল রবিউল ইসলাম সম্পর্কে তেমন তথ্যও দিতে পারেনি তারা। ফলে এখনো জানা যায়নি কী কারণে এত নিষ্ঠুরভাবে পপিকে হত্যা করা হলো।

অন্যদিকে নিহত ব্যবসায়ীর স্বজনরা অভিযোগ করেছে, খুনি রবিউল পুলিশের লোক হওয়ায় পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি এবং উদ্ধারের ব্যাপারে বিলম্ব করার কারণেই তাঁকে নিষ্ঠুরভাবে খুন হতে হয়েছে। তারা জানায়, পপি অপহৃত হওয়ার পর থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এমনকি খুনিদের নাম বলার পরও পুলিশ সদস্য বলে গ্রেপ্তার করেনি। পরে তারা র‌্যাবের শরণাপন্ন হলে পুলিশ ফের সক্রিয় হয়ে কনস্টেবল রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পপিকে উদ্ধার করা যেত।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগের এনায়েতগঞ্জ লেনের ব্যবসায়ী ও আরবান হেলথ কেয়ারের অ্যাডমিন তোশারফ হোসেন পপি কাজের মেয়ের সন্ধানে রংপুর এসেছিলেন। তিনি তাঁর পূর্বপরিচিত পুলিশ কনস্টেবল রবিউল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার জন্য গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে নাইট কোচে রংপুর নগরীর কামারপাড়ার বাসস্ট্যান্ডে আসেন। সেখানে রবিউলের সঙ্গে দেখা হয়। এর পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর সন্ধান না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার অপহৃতের বোন ডলি কোতোয়ালি থানায় রবিউলকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। পরে শুক্রবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল রবিউল, তাঁর ভগ্নিপতি সাইফুল ও বাসার কাজের ছেলে বিপুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে, গত রবিবার সকালে পপির লাশ বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে রবিউলকে নিয়ে পুলিশ বগুড়ায় অভিযান চালায়। এর মাধ্যমে পপিকে জীবিত উদ্ধারে সময় চলে গেছে।

তবে ডলি বলেন, পুলিশের নানা নাটকীয়তার কারণে কয়েক দিন বিলম্ব হওয়ার সুযোগে পপিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী ইভা জানান, কনস্টেবল রবিউল তাঁর স্বামীর পূর্বপরিচিত। রবিউল বিভিন্ন মানুষের কাছে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে দালালি করতেন। তাঁর স্বামী পপির সঙ্গেও লেনদেন ছিল ওই কনস্টেবলের। তা ছাড়া রংপুরে আসার সময় পপির কাছে বেশ কিছু টাকাও ছিল। লোভে পড়েই রবিউল তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছেন। আর খুনি পুলিশের সদস্য হওয়ায় পুলিশ ইচ্ছা করে এ ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি পুরো ঘটনার জন্য পুলিশের ব্যর্থতা আর দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করেছেন।

তবে কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুর রশিদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে খুনের মাস্টারমাইন্ড পুলিশ কনস্টেবল রবিউল, তাঁর ভগ্নিপতি সাইফুল ও বাসার কাজের ছেলে বিপুলকে গ্রেপ্তার করেছি। দ্রুততম সময়ে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।’

কনস্টেবল রবিউল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে মামলার কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওসার জানান, মূলত তিনি বগুড়ায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত। প্রেষণে ছিল রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে। এর বেশি জানাতে পারেননি তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা