kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কোণঠাসা সু চিকে ‘খুশি’ করে দেশে ফিরলেন চিনপিং

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোণঠাসা সু চিকে ‘খুশি’ করে দেশে ফিরলেন চিনপিং

ছবি ইন্টারনেট

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্রমে কোণঠাসা হয়ে পড়া মিয়ানমারের সঙ্গে একগুচ্ছ চুক্তি করে দেশে ফিরেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগর এলাকায় ‘কাইয়ুকপাইউ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ বিষয়ক চুক্তিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে জাতিসংঘের আদালত সপ্তাহখানেকের মধ্যে রায় ঘোষণা করবেন। এ অবস্থায় গত শুক্রবার দুই দিনের সফরে মিয়ানমারে যান চিনপিং। সফরকালে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ৩৩টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। এসব চুক্তির মধ্যে তথ্যবিনিময় থেকে শুরু করে শিল্প, কৃষি, নিরাপত্তা এবং চীন সীমান্তে অবস্থিত মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশের গৃহহীনদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়ও রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো ‘কাইয়ুকপাইউ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর করা হবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গিয়ে যুক্ত হবে এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক অঞ্চল’-এর সঙ্গে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতাধীন চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক অঞ্চলের আরেক প্রান্ত পড়েছে চীনের ইউনান প্রদেশে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রকল্পে মিয়ানমার যতটা লাভবান হবে, তার চেয়ে বেশি লাভ হবে চীনের। চীন অনেক বছর ধরেই মিয়ানমারকে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে অবাধে বাণিজ্য করতে চাইছে। রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মিয়ানমারের প্রতি চীনের যে সমর্থন, এটিই তার অন্যতম কারণ।

অন্যান্য চুক্তির মধ্যে রেলপথ, সড়কপথ ও গ্যাস পাইপলাইনের করিডর নির্মাণের মতো প্রকল্পও আছে। এসব প্রকল্প চীনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে মিয়ানমারের কাইয়ুকপাইউ শহরের ওপর দিয়ে যাবে।

ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ স্থাপন করাও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারে করিডর বানাতে পারলে খুব সহজেই ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে চীন। ভারত মহাসাগরে পৌঁছতে পারলে পারস্য উপসাগর দিয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি করা তাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। তখন মালাক্কা প্রণালির ওপর চীনকে নির্ভর করতে হবে না।

বলা হচ্ছে, চীন ও মিয়ানমারের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চিনপিং এই সফর করলেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে চীন সুসম্পর্ক ধরে রেখেছে।

সু চি ক্ষমতায় আসার আগে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গেও চীনের সুসম্পর্ক ছিল। সেনাশাসনের সময় পশ্চিমাদের নানা নিষেধাজ্ঞা ছিল মিয়ানমারের ওপর। ওই সময়ও চীন ছিল সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। এখন গণতান্ত্রিক উপায়ে সুচি ক্ষমতায় এলেও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এতটুকু কমেনি। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তর অভিযোগ আছে সু চির ঘাড়ে। সূত্র : এপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা