kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

কর্মকর্তা অপহরণ

রংপুরে মাটি খুঁড়ে বের করা হলো লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে মাটি খুঁড়ে বের করা হলো লাশ

প্রতীকী ছবি

অপহৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা তোশারফ হোসেন পপির লাশ আট দিন পর রংপুরের বদরগঞ্জে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শ্যামপুরের নন্দনপুর এলাকার একটি চাষ করা জমির গর্ত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তোশারফ ঢাকায় আরবান হেলথ কেয়ারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তোশারফের বাড়ি ঢাকার এনায়েতগঞ্জ লেনের হাজারীবাগ এলাকায়। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল রবিউল হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম ও তোশারফের বাড়ির কাজের ছেলে বিপুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা যায়, তোশারফ হোসেন পপি রংপুরে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রবিউলের কথামতো গৃহপরিচারিকার খোঁজে গত ১০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে রংপুরে আসেন। পরদিন শহরের কামারপাড়ার বাসস্ট্যান্ডে নামেন তিনি। সেখানে আগে থেকে ছিলেন রবিউল ইসলাম ও তাঁর লোকজন। বাস থেকে নামার পর রবিউল তাঁকে নিয়ে রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকায় বড় বোন লাবনী আক্তারের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তোশারফকে জানানো হয় তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে তাঁকে ছাড়া হবে না। এরপর টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালান রবিউল ও তাঁর লোকজন। যা তোশারফ বিভিন্ন সময় ফোনে তাঁর বোনকে জানান। তোশারফের স্বজনরা রংপুরে এসে পুলিশ কনস্টেবল রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার তোশারফের ছোট বোন সাজিয়া আফরিন ডলি কোতোয়ালি থানায় অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে কনস্টেবল রবিউলসহ তিনজনকে আটক করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যে গতকাল রবিবার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে তোশারফের লাশ উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও মামলার আইও শহীদুল্লাহ কায়সার জানান, গত ১০ জানুয়ারি পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে কনস্টেবল রবিউল হোসেনের কাছে যান তোশারফ হোসেন। রংপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নেওয়া হয় বদরগঞ্জের শ্যামপুরে তাঁর দুলাভাইয়ের বাসায়। সেখানেই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর তাঁকে হত্যা করেন রবিউল ও তাঁর লোকজন। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে নন্দনপুরের একটি জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন। পুলিশ গ্রেপ্তার করে কনস্টেবল রবিউল, তাঁর ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম ও তোশারফের বাড়ির কাজের ছেলে বিপুলকে। রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যার কথা স্বীকার করেন আসামিরা। উদ্ধার করা হয় তোশারফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসেট।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের গতকাল শনিবার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা