kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সড়ক সংস্কারে ধীরগতি জনভোগান্তির কারণ

আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক সংস্কারে ধীরগতি জনভোগান্তির কারণ

আন্ত ইউনিয়ন, উপজেলা—সর্বোপরি জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপনে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, উপজেলাভিত্তিক কলেজ-স্কুল জাতীয়করণ, মাদরাসা-মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য, স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা—বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে এসবই ছিল জয়পুরহাটবাসীর প্রত্যাশা। প্রার্থীরাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এসব প্রত্যাশা পূরণের। কিন্তু বিগত এক বছরে সেসব প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অংশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষত যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক সংস্কার শুরু হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর, যা জনগণের ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা, জয়পুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অত্যন্ত স্বল্প জায়গায় অবস্থিত একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা, শহরের ভেতরের একমাত্র সড়কটি প্রশস্ত করা এবং জেলার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন করা। কিন্তু সংস্কারের নামে প্রায় বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে সংস্কারকাজ। বিভিন্ন সড়কের বেহাল চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী।

জয়পুরহাট-মোকামতলা, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর, জয়পুরহাট-ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর-ক্ষেতলাল, মোলামগাড়ী-বাখড়াসহ জেলার প্রায় সব সড়ক সংস্কারের নামে পিচ ও খোয়া তুলে ফেলে রাখা হয়েছে এক বছরের বেশি সময় ধরে। কাজ চলছে অতি ধীরগতিতে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা শহরের আড়াই কিলোমিটার সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। অথচ ১৪ মাস পরও এর কাজই শুরু হয়নি।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের আড়াই কিলোমিটার সড়কটির জন্য ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে উন্নয়নকাজ শুরু করা যায়নি। তবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য আবেদনও করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্র এর কাজ শুরু হবে।’

জেলায় বড় দুটি সেতু নির্মাণসহ প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলছে। তবে উন্নয়নকাজের দিক দিয়ে জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি) আসন তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে। জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে বেশ কিছু উন্নয়নকাজ চলমান। এরই মধ্যে আক্কেলপুরের গোপীনাথপুরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বহুতল হেলথ ইনস্টিটিউট। কাজ চলছে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটেরও।

জয়পুরহাট-২ আসনভুক্ত তিন উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ক্ষেতলাল উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, বহুতল সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, ডায়াবেটিক হাসপাতাল নির্মাণ, মডেল মসজিদ নির্মাণ এবং ক্ষেতলাল-জয়পুরহাট ও ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ। ক্ষেতলাল, কালাই ও আক্কেলপুরে তিনটি কলেজ ও তিনটি স্কুল জাতীয়করণ ছাড়াও ক্ষেতলালের মামুদপুর ইউনিয়নের আছরাঙ্গা বিলের পাশে এক হাজার একর জমি নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এই আসনের তিন উপজেলায় কয়েক শ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তবে জনগণকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছে সংস্কারের নামে মাসের পর মাস ফেলে রাখা জেলার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নকাজ। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী এসব কাজ সমাপ্তির সময়সীমাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার পরও দ্রুত কাজ শেষ করার কোনো লক্ষণ নেই।

ক্ষেতলাল উপজেলার মুন্দাইল গ্রামের আদর্শ কৃষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলে ভালো মানের বীজ পাওয়া যায় না। এ জন্য সরকারি বীজাগার নির্মাণ আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখছি না।’

পাঁচবিবির শিরট্টি বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজার রহমান বলেন, ‘শিরট্টি বাজার থেকে পাঁচবিবিতে যোগাযোগের জন্য তুলসীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। অতীতে বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্য কথা দিয়েও উদ্যোগ নেননি। আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদুও নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু এক বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।’

জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি ছিল বিদ্যুতের। গত ১০ মাসের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুত্ নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন সড়ক সংস্কার এবং বিভিন্ন সেতু নির্মাণের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা