kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

স্ত্রী-শাশুড়িসহ চারজনকে হত্যার পর আত্মহত্যা

মণিরামপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামী আটক

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) ও মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্ত্রী-শাশুড়িসহ চারজনকে হত্যার পর আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাল্লাথল চা বাগানে স্ত্রী ও শাশুড়িসহ চারজনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এক শ্রমিক। এরপর হত্যাকারী নিজে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রবিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে।

আগের দিন শনিবার রাতে যশোরের মণিরামপুরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর তাঁকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাঁর স্বামীকে আটক করেছে।

বড়লেখায় চারজনকে খুনের পর আত্মহত্যা : পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্ত্রী জলি বুনার্জি (৩০) ও শাশুড়ি লক্ষ্মী বুনার্জিকে (৬০) কুপিয়ে হত্যা করেন নির্মল কর্মকার (৩৮)। ঠেকাতে গেলে প্রতিবেশী বসন্ত বক্তা (৬০) ও তাঁর মেয়ে শিউলী বক্তাকেও (১৪) হত্যা করেন তিনি। বসন্ত বক্তার স্ত্রী কানন বক্তাকেও (৪০) কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, সম্ভবত পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে বিকেল ৫টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ভারত সীমান্তের কাছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাল্লাথল চা বাগানের ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, রক্তাক্ত বসন্ত বক্তা ও তাঁর মেয়ের শিউলীর লাশ পড়েছিল উঠানে। ঘরের মেঝেতে ছিল জলি ও তাঁর মা লক্ষ্মীর লাশ। ঘরের এক কোণে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝোলানো ছিল নির্মল কর্মকারের লাশ।

বাগানের সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কাজও ছিল না। ঘটনাস্থলের আশপাশে চা শ্রমিক পরিবারের লোকজন জড়ো হয়েছেন। মর্মস্পর্শী এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাগানের লোকজন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক নির্মলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জলির অনেকক্ষণ ঝগড়া হয়। এর জের ধরে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জলিকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন নির্মল। ঠেকাতে গেলে প্রথমে শাশুড়িকে এবং পরে দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে জখম করেন তিনি। ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন প্রতিবেশী কানন। বেঁচে যায় জলির আগের সংসারের মেয়ে চন্দনা (৯)। পাল্লাথল চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্রী পালিয়ে গিয়ে চিৎকার দিলে আশাপাশের লোকজন এসে বাড়ি ঘেরাও করে। এ অবস্থায় নির্মল ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বাগানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুই বছর আগে পাল্লাথল বাগানের বিষ্ণু বুনার্জির মেয়ে জলি বুনার্জিকে বিয়ে করেন নির্মল কর্মকার। তখন থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন এবং এ বাগানে কাজ করছিলেন। এর আগে নির্মল অন্য চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। বাগানের বাসিন্দা লতা রানী কর্মকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ রকম ঘটনা কোনো দিন বাগানে

ঘটেনি। সকলেই শান্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করি। আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এ বাগানে বসবাস করি। এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ।’ তিনি জানান, নির্মলের মূল বাড়ি কোথায় কেউ জানত না।

নৃশংস এ ঘটনায় নির্মলের স্ত্রীর আগের পক্ষের মেয়ে চন্দনা বাকরুদ্ধ। সে কারো সঙ্গে কথা বলছিল না।

নিহত জলির বাবা বিষ্ণু বুনার্জি বলেন, ‘মেয়ে আমাদের অ-মতে নির্মলকে বিয়ে করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। দুই মাস ধরে আমি অন্য মেয়ের বাড়িতে থাকি। ঘটনার খবর পেয়ে আমি বাগানে এসে আমার স্ত্রী, মেয়েসহ সবার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পাই।’

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘নির্মল আমাদের বাগানের নিয়মিত শ্রমিক ছিল না।’

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের ধারণা যে পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে।’

মণিরামপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ : মণিরামপুরের মাঝিয়ালী গ্রামের বিজয় দাসের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী লিপিকা দাসের (২৩) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় শনিবার রাত ১১টার দিকে।

লিপিকা কেশবপুর উপজেলার খতিয়াখালী গ্রামের পাগল দাসের মেয়ে। ছয়-সাত বছর আগে বিজয় দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

লিপিকার ভাই সাধন দাস সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে লিপিকাকে ঘরে নিতে চাইত না বিজয়। টাকার জন্য বিভিন্ন সময় বিজয় তাকে মারধর করতেন। কয়েক দিন আগে বিজয় জমি কিনবেন বলে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না পারায় লিপিকাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বিজয়।

সাধনের দাবি, শনিবার সন্ধ্যার পরপরই লিপিকাকে হত্যা করে গলায় লুঙি জড়িয়ে তাঁর লাশ ঝুলিয়ে রাখেন বিজয়। লিপিকার মরার খবর বিজয় তাঁদের জানাননি। লিপিকা আত্মহত্যা করেছেন—এমন খবর প্রচার করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে দাহ করার জন্য শ্মশানে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিজয়ের পাশের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন।

লিপিকার ভাবি শোভা দাস বলেন, বিজয় আগের স্ত্রী ও চার সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে লিপিকাকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি ঢাকায় ও চট্টগ্রামে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন। লিপিকাও তাঁর সঙ্গে থাকতেন। চট্টগ্রামে এক নারীর সঙ্গে বিজয়ের পরকীয়া সম্পর্ক আছে। এ কারণে কিছুদিন আগে লিপিকাকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন তিনি। লিপিকা তখন বাবার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। কেশবপুর থানায় অভিযোগ করার পর গত ২২ ডিসেম্বর মুচলেকা দিয়ে লিপিকাকে নিয়ে আসেন বিজয়।

মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহির রায়হান বলেন, লিপিকার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিজয়কে হেফাজতে নিয়েছেন তাঁরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা