kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নার্সের খুন্তির ছেঁকায় শিশু গৃহকর্মী হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নার্সের খুন্তির ছেঁকায় শিশু গৃহকর্মী হাসপাতালে

ফ্রিজে মুরগি খুঁজে না পেয়ে এক শিশু গৃহকর্মীকে খুন্তির ছেঁকা দেওয়ার অভিযোগে দিলওয়ারা নামের এক নার্সের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নার্সকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দিলওয়ারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্মরত। শিশুটিকে  নির্যাতনের সময় মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে তার স্বজনদের অভিযোগ।

ওই শিশুর খালা সাংবাদিকদের জানান, কয়েক দিন আগে নার্স দিলাওয়ারার বাবা গ্রাম থেকে দুটি মুরগি নিয়ে আসেন। তার একটি তাঁরা রান্না করে খান এবং অন্যটি বাসার ফ্রিজে রাখেন। দুই দিন আগে ফ্রিজে রাখা মুরগিটি খুঁজে পাননি দিলওয়ারা। মুরগিটি ওই শিশু গৃহকর্মী চুরি করেছে—এমন সন্দেহের কথা জানিয়ে তাঁর স্বামী রাজীবকে নিয়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর দুই ঊরুতে খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেন তাঁরা। ঘটনার এক দিন পর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠায় পুলিশ। সেখানেই এখন তার চিকিৎসা চলছে। 

পুলিশ জানায়,  এ ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় করা মামলায় দিলওয়ারার স্বামী রাজীবকে গতকাল শনিবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিলওয়ারাকেও গ্রেপ্তারের  চেষ্টা চলছে বলে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

শিশুটির খালা সোমা আক্তার গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, শিশুটির বাবা তার মাকে ফেলে রেখে চলে যায়। দুই শিশুসন্তান নিয়ে অভাবের সংসারে কষ্টে পড়েন তার মা। ওই অবস্থায় শিশুটিকে কাজে দেওয়ার কথা ভাবেন। ওই সময় পটুয়াখালীর দশমিনার বাসিন্দা নার্স দিলওয়ারা তাকে কাজের জন্য দুই বছর আগে ঢাকায় নিয়ে আসেন। কয়েক দিন আগে ফ্রিজে মুরগির মাংস না পেয়ে দিলওয়ারা ও তাঁর স্বামী রাজিব তাকে মারধর ও খুন্তির ছেঁকা দেন। এরপর মেয়েটি ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় তার এক চাচার বাসায় চলে যায়। পরে বিষয়টি জানতে পারে তার পরিবারের সদস্যরা। গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির সহযোগিতা করে।

সূত্র জনায়, গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী দুজনের বাড়িই পটুয়াখালীর দশমিনা এলাকায়। মেয়েটির বাড়িও একই এলাকায়। পরিচয়ের সূত্রেই তাকে কাজে আনেন তাঁরা। মেয়ের এ খবর শুনে গতকাল রাতে তাঁরা পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় এসেছেন। শিশুটিকে দেখতে রাজিবের এক ভাইও এসেছেন গ্রাম থেকে। রাজিব ঢাকায় ব্যবসা করেন আর তাঁর স্ত্রী নার্সের চাকরি করেন বার্ন ইউনিটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা