kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আইসিসিবিতে

নতুন প্রযুক্তি আর যন্ত্রের সমাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন প্রযুক্তি আর যন্ত্রের সমাহার

বিজিএপিএমইএসহ কয়েকটি সংগঠনের আয়োজনে তৈরি পোশাক শিল্পপণ্যের চার দিনব্যাপী প্রদর্শনী চলছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়। গতকাল ছুটির দিনে ছিল দর্শনার্থীর ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের ফকির নিটওয়্যারের কম্পিউটার ডিজাইন ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা। পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের প্রদর্শনী দেখতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আসেন। প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর সন্ধ্যায় বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নিয়ে একই ছাদের নিচে এত বড় আয়োজন হতে পারে, সেটা এখানে না এলে বিশ্বাসই হতো না। সত্যি অসাধারণ। এর মাধ্যমে শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতাই নয়, দেশও উপকৃত হচ্ছে।’

দেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে গত বুধবার থেকে আইসিসিবির ১০টি হলে চলছে মেশিনারি, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিকস, গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ এবং প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং মেশিনারি অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিস নিয়ে চারটি প্রদর্শনীর। ‘গার্মেন্টটেক বাংলাদেশ ২০২০’, ১১তম ‘ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক সোর্সিং ফেয়ার’, ১১তম ‘গ্যাপ এক্সপো-২০২০’ এবং ‘প্যাকটেক বাংলাদেশ ২০২০’ নামের ওই প্রদর্শনীগুলোতে ২৪টি দেশের ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে। গতকাল ছিল প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল ক্রেতা ও দর্শনার্থীর বাড়তি ভিড় লক্ষ করা গেছে। 

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, পোশাক খাতের সরঞ্জাম ও মোড়ক সামগ্রী তৈরির যন্ত্র, সেলাই মেশিন, এমব্রয়ডারি, ডায়িং, ওয়াশিং মেশিন, প্রিন্টিং কাটিং, স্প্রেডিং যন্ত্র, বয়লার—সবই একই ছাদের নিচে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন, নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, দক্ষতা, পণ্যের মান, বৈচিত্র্য এবং মোড়কজাতকরণ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তি উপস্থাপন করছে।

প্রদর্শনীর ৯ নম্বর হলে অংশ নিয়েছে দেশি প্রতিষ্ঠান আলিফ বয়লার কম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. ইলিয়াস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে বয়লার মেশিনের ব্যবহার হয় না। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতেও আমাদের কম্পানির বয়লার ব্যবহার করা হয়। তবে এবার ক্রেতাদের সাড়া কম।’ বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে ডেনিমপণ্যের ওয়াশিং মেশিন সরবরাহকারী চায়না ব্র্যান্ড টংজিং। এর বাংলাদেশি  এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন সক্ষমতার ডেনিমপণ্যের ওয়াশিং মেশিন আমরা স্থানীয় কারখানায় সরবরাহ করে থাকি। তবে এগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি। ব্যাংকগুলো ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তাদের সেভাবে সহায়তা করছে না। এ কারণে মেলায় সে রকম সাড়া পাচ্ছি না।’

বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মেলায় এসেছেন প্রিন্টিং শিল্প প্রতিষ্ঠান মুডমেকার ইমপ্রেশনের পরিচালক মো. আসিম রেজা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের মেলা ক্রেতা ও সাপ্লাইয়ারদের মধ্যে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বেশ ভূমিকা রাখে। কারণ দেখেন, আমি কিন্তু এ মেলার কারণেই বিদেশি ওই ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাচ্ছি। এ ছাড়া এ ধরনের মেলার কারণে গার্মেন্ট খাতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও মেশিন সম্পর্কে জানতে পারছি। প্রতিবছরই এ ধরনের আয়োজন হওয়া উচিত।’

মেলার ২ নম্বর হলে অংশ নিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফোকাস গার্মেন্টটেক প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশি এজেন্ট মো. এনামুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টে যত ধরনের ফিনিশিং আইটেম রয়েছে, তার সব মেশিন সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এসব মেশিনের সবই অটোমেটেড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিটোনি ও রোবটেক মেশিন। গতবারের তুলনায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা কম আসছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বায়াররা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। শিপমেন্ট বিলম্ব এর অন্যতম কারণ। অন্য দেশে পোশাক রপ্তানি যেখানে সাত থেকে ১০ দিনে সম্পন্ন হয়, সেখানে আমাদের ৩০ থেকে ৪৫ দিন লেগে যায়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়ও ক্রেতা ও দর্শনার্থী উপস্থিতি কম মনে হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা