kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি পেঁয়াজের বাজারে

চট্টগ্রামে পাইকারিতে ৫০-৮০ টাকা কেজি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি পেঁয়াজের বাজারে

সরবরাহ বাড়ায় ভোগ্য পণ্যের বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কমেছে। ছয় দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ভালো মানের চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি দরে। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসা মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকা দরে। হল্যান্ডের পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকা, তুরস্কের পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা এবং পাকিস্তানের পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গত মঙ্গলবারও এসব পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ১০০ টাকা কেজিতে।

দাম কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, টেকনাফ দিয়ে প্রচুর পেঁয়াজ ঢুকেছে; আসার পথেও আছে অনেক পেঁয়াজ। আর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েও ঢুকেছে বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজারে চাহিদা নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুুই দিন ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এখনো আসার পথে রয়েছে ৭০টি ট্রাক; এগুলোতে পেঁয়াজ রয়েছে এক হাজার মেট্রিক টনের বেশি। ফলে সরবরাহ বেশি হয়ে যাওয়ায় দাম কমেছে।

আড়তদার নাজিম উদ্দিন বলছেন, ‘এখন পেঁয়াজের বাজারের অবস্থা খাদের কিনারে। একটু এদিক-ওদিক হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে। একটু বৃষ্টিতে সরবরাহ বন্ধ হলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, সেটা এরই মধ্যে আমরা দেখেছি। এখন বাজারের স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখতে নিয়মিত সরবরাহ বাড়ানো নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আবারও দাম বেড়ে যাবে।’

এদিকে দুই-তিন দিন ধরে বাজারে গুজব রটেছে ‘ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে’। এই গুজব পেঁয়াজের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কারণ ব্যবসায়ীদের ধারণা, ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের বাজারে এলেই অন্য যেকোনো দেশের পেঁয়াজের দামে ধস নামবে।

জানা গেছে, মূলত এই গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। ভারতে আমদানীকৃত এবং অবিক্রীত কিছু পেঁয়াজ কম দামে বাংলাদেশে বিক্রির প্রস্তাবকে ঘিরেই এই গুজব তৈরি হয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, পেঁয়াজের বাজার যখন ১০০ রুপি ছাড়িয়ে যায় তখন বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে এবং বিভিন্ন প্রদেশে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে। ইদানীং ভারতে পেঁয়াজের উত্পাদন ও সরবরাহ বাড়ায় বিভিন্ন প্রদেশে পাঠানো আমদানীকৃত পেঁয়াজ অবিক্রীত থেকে যায়। সেই পেঁয়াজ কেন্দ্রে ফেরত পাঠানোর কারণে পচে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। এই অবস্থায় ভারত আমদানীকৃত এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশকে। ভারত বলেছে, তারা এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে কিনেছে। তবে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার রকিবুল হক বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ার কথা বললেও ভারতের ওই পেঁয়াজ নেবেন কি না সিদ্ধান্ত জানাননি। গত ৭ জানুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ান বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন বলে দ্য প্রিন্টের খবরে বলা হয়।

তবে এই খবর দেশের বাজারে প্রচার হলে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা বলছেন, পচা পেঁয়াজ কেন তাঁরা আনবেন।

এ বিষয়ে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারতীয় নিম্নমানের পেঁয়াজ আমাদের দেশে পাঠানোর যে প্রস্তাব ভারত সরকার দিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে আমাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারণ ভারতের ভোক্তারা যে পেঁয়াজ খেতে চাইছে না, সেটি আমাদের গছিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ পেঁয়াজসংকটের সময় ভারত আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। দেশের ব্যবসায়ীরাই পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার ধরে রেখেছেন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা