kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়া ছয় জেলে ‘ভারতীয় কারাগারে’

ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে জলসীমা অতিক্রম

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়া ছয় জেলে ‘ভারতীয় কারাগারে’

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করায় বাংলাদেশি ছয় জেলেকে সে দেশের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি বলছে, ভারতীয় একটি সূত্র মোবাইল ফোনে তাদের জানিয়েছে, ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার একটি কারাগারে তাঁদের পাঠানো হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে ১২ দিন ধরে তাঁরা ভারতে আটক রয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ড কিংবা জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। ফলে তাঁদের দেশে আনার বিষয়ে কোনো উদ্যোগও শুরু হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিকল হওয়া ট্রলারটির মালিক তৌহিদুল ইসলামের বরাত দিয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভারতে ‘আটক’ বাংলাদেশি জেলেরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী গ্রামের মৃত আমির হোসেন জোমাদ্দারের ছেলে মো. বেল্লাল মাঝি, দক্ষিণ জ্ঞানপাড়া গ্রামের সুলতান চৌকিদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, তালুক চরদুয়ানী গ্রামের আ. রব জোমাদ্দারের ছেলে মো. এমাদুল হক, মৃত হাফেজ জোমাদ্দারের ছেলে মো. শাহিন ও আতাহার আলীর ছেলে আবদুল হক এবং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকার বাহাদুর চাপরাশির ছেলে মো. ইমরান চাপরাশি।

গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, গত ৫ জানুয়ারি রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গভীর সমুদ্রে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার দারুলহুদা গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের মালিকানা এফবি মারিয়া ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বিকল হওয়ার পর ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় চলে যায়। এ কারণে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের সে দেশের বন বিভাগ আটক করে স্থানীয় পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। আটকের পর ভারতীয় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ট্রলার মালিককে বিষয়টি জানায়। পরে ছয় জেলের নাম উল্লেখ করে পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ট্রলার মালিক তৌহিদুল ইসলাম। জিডি নম্বর ৬৫৪, তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২০। পাথরঘাটা থানা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ট্রলার মালিক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বুধবার পাথরঘাটায় দেশের বৃহত্তম বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে মাছ শিকার করার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যাত্রা করেন জেলেরা। কয়েক ঘণ্টা চালানোর পর ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে স্রোতে ভারতীয় জলসীমা অতিক্রম করে। একপর্যায়ে ভারতীয় জলসীমায় ট্রলারটি গেরাফি (Anchor) দিয়ে অবস্থান করছিলেন তাঁরা।

তৌহিদুল বলেন, ভারতীয় বন বিভাগের সদস্যরা অনুপ্রবেশের অভিযোগে ছয় জেলেকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এবং ট্রলারটি জব্দ করে। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাড়ইপুর কারগারে পাঠায়। তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছে।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কোস্ট গার্ডের পাথরঘাটা স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ কোস্ট গার্ডের মোংলা স্টেশনের লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ বলেন, ‘খবরটি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম।’

যোগাযোগ করা হলে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রলার মালিক বা জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে এমন কিছু জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। তারা যদি কাগজপত্র দেয়, তাহলে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানাবেন, যাতে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা