kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবরার হত্যা মামলা

বিচারের জন্য প্রস্তুত দায়রা আদালতে নথি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচারের জন্য প্রস্তুত দায়রা আদালতে নথি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গতকাল এই মামলায় পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে জারি করা বিজ্ঞপ্তি আদালতে দাখিল করার দিন ধার্য ছিল। সেই বিজ্ঞপ্তি আদালতে দাখিল করার পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। নথি পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জাহিদুল কবির নথিতে সই করেন।

চার্জশিটভুক্ত পলাতক চার আসামির মধ্যে একজন মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমত্য ইসলাম আগের দিন রবিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনো পলাতক। ওই তিনজন হলেন মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গত ১৮ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গত ৩ ডিসেম্বর। ক্রোকসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন আসায় মামলার পলাতক চার আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয় গত ৫ জানুয়ারি।

আবরারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ২৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দিয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের নাম ছিল এজাহারে। তদন্তে অন্য ছয়জনের নাম পাওয়ায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর একজন আত্মসমর্পণ করেন। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে আছেন। চার্জশিটভুক্ত সব আসামি বুয়েটের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত।

কারাগারে থাকা ২২ আসামি হলেন খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, এস এম মাহমুদ সেতু, মেহেদী হাসান রবিন, মোয়াজ আবু হুরায়রা, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও অমত্য ইসলাম মোর্শেদ।

বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছিল। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁর মরদেহ। পরদিন দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ছাত্রলীগের ১৯ নেতাকর্মীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা