kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

উত্তরে শীতের কাঁপন

তেঁতুলিয়ায় ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তরে শীতের কাঁপন

ঠাণ্ডার পারদ নামছেই। কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসে থরথর করে কাঁপছে উত্তরের মানুষ। গতকাল রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের কাঁপনে বেড়েছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ। ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ধুঁকছে শিশুরা। এদিকে অনেক এলাকায় শীতবস্ত্রের সংকটের কারণে হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা কষ্ট পাচ্ছে। কয়েক দিন ধরে রাতে কুয়াশার কারণে পথঘাটে হেডলাইট জ্বালিয়েও যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা। দিনের কিছু সময় সূর্যের দেখা মিললেও তাতে নেই তেমন উত্তাপ। শীতের প্রকোপ বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার হাসপাতালগুলোতে দিন দিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেশি।

রংপুরের পীরগাছায় বেড়েছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ। এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৮৩ জন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু আল হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময় দিনে গরম ও রাতে শীত পড়ার কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে।’

কুড়িগ্রামের উলিপুরে কয়েক দিন ধরে শীত বেড়েছে। সন্ধ্যা নামলেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে জনপদ। ফলে প্রচণ্ড শীতে চরম বিপাকে পড়ছে মানুষ। বিশেষ করে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রচণ্ড শীতের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে ফুটপাতে পুরনো গরম কাপড় বিক্রির ধুম পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, এ পর্যন্ত ৯ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে আরো দেওয়া হবে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্র পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ শীতে কষ্ট পাচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে। টাকার অভাবে অনেকেই শীতবস্ত্র কিনতে পারছে না। প্রতিবছর শীতের শুরু থেকে এলাকায় শীতার্তদের মাঝে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু এবার তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘সরকারিভাবে এ পর্যন্ত মাত্র ১২৫টি কম্বল পেয়েছি। এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আরো কিছু কম্বল কিনে সেগুলো মেম্বারদের মাধ্যমে এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি।’ (প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন রংপুরের পীরগাছা, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও কুড়িগ্রামের উলিপুর প্রতিনিধি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা