kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

চাঁদা না পেয়ে স্কুলের কাজ বন্ধ করল ছাত্রলীগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদা না পেয়ে স্কুলের কাজ বন্ধ করল ছাত্রলীগ

৩০ লাখ টাকা চাঁদা পকেটে ঢোকেনি। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ ছেলে শেখ রাসেলের নামে নির্মাণাধীন স্কুলের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। দাবি করা চাঁদার টাকা না পেয়ে গতকাল রবিবার দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের দুই নেতা গিয়ে স্কুলটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী মাঠের দক্ষিণ পাশে স্কুলটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। নির্মাণকাজের জন্য বরাদ্দ হয় ১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশন স্কুলটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয় নির্মাণকাজ। স্কুলটির নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানকারী মমতাজ উদ্দীন জানান, কাজ শুরুর পর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী মমতাজ উদ্দীনের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাঁরা মমতাজকে জিজ্ঞাসা করেন, কার অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। একপর্যায়ে মমতাজের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ছাত্রলীগ নেতারা। অন্যথায় স্কুলের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মমতাজ উদ্দীন আরো জানান, প্রায়ই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী প্রকল্পে গিয়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করতেন। গতকাল দুপুরে রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্তসহ দুজন গিয়ে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের পেছনে নিয়ে যায়। বিষয়টি শিগগিরই মীমাংসা করার কথা বললে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।’ ছাত্রলীগ নেতা বৃত্তের ছবি দেখালে বৃত্ত তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন। তবে বৃত্তের সঙ্গে থাকা অন্যজনের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

গতকাল বিকেলে সরেজমিনে নির্মাণাধীন স্কুল প্রাঙ্গণে দেখা যায়, শ্রমিকরা কাজ না করে একসঙ্গে মাঠে বসে আড্ডা জমিয়েছেন। হুমকির পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সবুজ নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘সকাল থেকে কাজ করছিলাম। দুপুরে দুজন এসে ম্যানেজারকে কাজ বন্ধ করে দিতে বলে। তাঁকে তুলেও নিয়ে যায়।’

তবে অভিযুক্ত সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত বলেন, ‘আমি আজকে স্কুলের ওদিকে যাইইনি। এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কাউকেই তুলে আনিনি কিংবা স্কুলের কাজ বন্ধও করে দিইনি।’ এর আগেও বৃত্ত রাবির শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে দুই শিক্ষার্থী ও একটি খাবারের দোকান থেকে চাঁদাবাজি করেন।

এ ব্যাপারে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমরা কখনোই কারো কাছে এ ব্যাপারে চাঁদা দাবি করিনি।’ তাঁরা বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি এখনো জানি না। তবে কেউ যদি ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এমন কাজ করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা শুনেছি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে তাঁর ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা