kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

অসংখ্য পুরনো কমিটি রেখেই হচ্ছে জাতীয় সম্মেলন

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অসংখ্য পুরনো কমিটি রেখেই হচ্ছে জাতীয় সম্মেলন

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদে আট বিভাগের ৭৮ জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৩৭টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে অর্ধেকের মতো জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন বাদ রেখেই আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিগত জাতীয় সম্মেলনের আগে মাত্র তিন-চারটি কমিটির সম্মেলন বাকি ছিল। এবার সবচেয়ে বেশি সম্মেলন হয়েছে খুলনা বিভাগে আর সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগে মোট ১১টি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। সম্প্রতি এ বিভাগে সাতটি জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিভাগে চলতি ডিসেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো কমিটির সম্মেলন বাকি নেই। বিভাগটিতে গত ২৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা, ২৭ নভেম্বর যশোর জেলা, ৩ ডিসেম্বর নড়াইল জেলা, ৯ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা, ১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলা ও মহানগর, ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সম্মেলন হয়। চলতি ডিসেম্বর মাসেই মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এ চার জেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়নি।

বিগত কাউন্সিলের পর খুলনা বিভাগে ৪১টি মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো কোনো উপজেলায় কমিটি গঠন নিয়ে ১৮-২০ ধরনের জটিলতা ছিল। এ মেয়াদে এসে সেই উপজেলাগুলোতেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

জানতে চাইলে খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, খুলনা বিভাগে যে কয়েকটি জেলার সম্মেলন বাকি আছে সেগুলোর তিন বছর মেয়াদ পূর্তি হয়েছে চলতি ডিসেম্বর মাসেই। এ জেলাগুলোর সম্মেলন আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা বিভাগের জেলা ও উপজেলাগুলোতে খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটিগুলোতে ত্যাগী নেতারা স্থান পেয়েছেন। পুরো বিভাগেই এখন চমৎকার সাংগঠনিক কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে।

রংপুর বিভাগে ৯টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ছয়টির সম্মেলন হয়েছে। ২৬ নভেম্বর রংপুর জেলা ও মহানগর, ৫ ডিসেম্বর নীলফামারী, ৬ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও, ১১ ডিসেম্বর লালমনিরহাট, ১২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগটির অন্য তিন জেলার মধ্যে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদ এখনো পূর্ণ হয়নি। দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলার উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন শেষ করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল কালের কণ্ঠকে বলেন, যে তিন জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি সেগুলোর উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে জেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন করতে পারিনি। কিন্তু তিনটি জেলারই সম্মেলনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জেলা ও মহানগর কমিটির ছয় জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০ অক্টোবর নোয়াখালী, ২৬ অক্টোবর ফেনী, ২৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি, ২৫ নভেম্বর বান্দরবান, ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও ৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সম্মেলন পেছানো হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে সাত জেলা ও মহানগরের মধ্যে তিনটির সম্মেলন হয়েছে। ২ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলা, ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মহানগর, ১২ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হলেও পরে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে তা স্থগিত করা হয়। বিভাগটির আরো দুই জেলা ভোলা ও বরিশালের সম্মেলন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মেলন না হওয়া চার জেলা কমিটির মধ্যে দুটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি আর দুটি সদ্য মেয়াদ পূর্ণ করেছে।

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত জাতীয় সম্মেলনের আগে বরিশাল বিভাগের সাত জেলা ও মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে কোনো কমিটিই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ নয়। এর পরও আমরা তিন জেলা ও মহানগরের সম্মেলন শেষ করেছি। বাকি চার জেলার মধ্যে দুটির সব উপজেলার সম্মেলন শেষ হয়েছে। আমরা সম্মেলনের তারিখও নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু পরে তা হয়নি। আগামী জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ জেলাগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’

রাজশাহী বিভাগে ৯টি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটির সম্মেলন হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা ও ৮ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ বিভাগে রাজশাহী মহানগর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সিলেট বিভাগের পাঁচ জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে সম্প্রতি তিনটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর, ১১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়। এ বিভাগে সুনামগঞ্জ জেলার  আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাকি রয়েছে।

সম্মেলনের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে নতুন গঠিত ময়মনসিংহ বিভাগ। এ বিভাগে পাঁচটি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। বিভাগটিতে একটিরও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সম্মেলন না হওয়ার প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বিভাগটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সম্মেলনের দিক থেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ঢাকা বিভাগও। এ বিভাগে ১৭ জেলা ও মহানগরে আওয়ামী লীগের কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মাত্র দুটি কমিটির সম্মেলন হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি জেলা ও মহানগরগুলোতে সম্মেলন করতে পারেননি আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও অধীনস্থ কয়েকটি উপজেলা কমিটির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হলেও পরে অভ্যন্তরীণ বিরোধে তা স্থগিত হয়ে যায়। একই কারণে ফরিদপুরের একাধিক উপজেলায় সম্মেলন স্থগিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা বিভাগের জেলা ও মহানগরগুলোতে কমিটি গঠন খুবই কঠিন কাজ। এখানকার জেলা ও মহানগরগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। ফলে এ বিভাগে সম্মেলন কম হয়েছে। উপরন্তু এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দুজনই মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় সাংগঠনিক কাজে গতি কমেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা