kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আজ আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় সমস্যা সমাধানের আশা

আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত, কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত, কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত করে কারখানায় ফিরেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। আজ রবিবার আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় চলমান সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা না হলে আগামী মঙ্গলবার থেকে আবারও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। এদিকে পাটকল  শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি আদায় এবং অনশনরত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। সংগঠনের সভাপতি হাবীব উল্ল্যা বাচ্চুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সহসভাপতি খলিলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইয়াসিন ও প্রকাশ দত্ত, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আক্তারুজ্জামান খান প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ন্যায্য দাবি মেনে না নেওয়ার কারণে পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অনশনরত অবস্থায় পাটকল শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুর জন্য সরকার ও বিজেএমসি (বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন) দায়ী। শুধু তা-ই নয়, সরকার পাটশিল্পকে ধ্বংস করতে এই শিল্পকে লোকসান দেখানোসহ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে পাটকল পরিচালনাসহ নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। নেতারা অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফা মেনে নেওয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া প্রদান, কাঁচা পাট ক্রয়ে অর্থ প্রদান, মিলগুলো আধুনিকীকরণ (বিএমআরআই), জুটস গুডস ম্যান্ডেটরি অ্যাক্টসহ ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। অনশন চলাকালে গত বৃহস্পতিবার প্লাটিনাম জুট মিলের তাঁত বিভাগের অসুস্থ শ্রমিক আব্দুস সাত্তার মৃত্যুবরণ করেন। এ ছাড়া দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হন, যাঁদের অনেকেই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা অফিস জানায়, অনশনরত শ্রমিক আব্দুস সাত্তার মৃত্যুর পর খুলনার শিল্পাঞ্চল আরো বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও শুক্রবার রাতে প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের পর তিন দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের নির্দেশনায় আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন নরসিংদী ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকরা। কর্মসূচি স্থগিত করার পর গতকাল সকালে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। ইউএমসি জুট মিল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, চার দিনের অব্যাহত অনশনের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা