kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

পরিকল্পিত উন্নয়নের কথা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মুখে

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ১১

জহিরুল ইসলাম   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিকল্পিত উন্নয়নের কথা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মুখে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডটি উত্তর ও দক্ষিণ শাহজাহানপুর, রেলওয়ে কলোনি, খিলগাঁও বাগিচা শহীদবাগ, আউটার সার্কুলার রোড এলাকা নিয়ে গঠিত। মোট জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ, যার মধ্যে ভোটার প্রায় ৪২ হাজার। ওয়ার্ডজুড়ে উন্নয়নকাজ হলেও তা ব্যাপকভাবে দৃষ্টিগোচর নয়। সরু রাস্তা ও অলিগলিতে রয়েছে খানাখন্দ। রেলওয়ে কলোনির অবৈধ স্থাপনা ভাঙার পর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে এলোমেলো পরিবেশ। এমন পরিস্থিতিতে আবার এসেছে নির্বাচন। সিটি করপোরেশনের ভোট সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিরসনের আশ্বাস দিচ্ছেন। বলছেন, নির্বাচিত হলে এটিকে পরিকল্পিত ডিজিটাল মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবেন।

দক্ষিণের এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর হামিদুল হক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান বাবুল, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নূরের নবী ভুঁইয়া রাজু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জাকির ও স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দিলু। বড় দুই দলের বাইরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ বি এম হেলাল উদ্দীনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ে কলোনি এলাকাজুড়ে অবৈধ স্থাপনা ভাঙার চিত্র। সরানো হয়নি ভাঙা ইট-রড। উত্তর ও দক্ষিণ শাহজাহানপুরের কিছু সড়কে দেখা গেল খানাখন্দ। কয়েকটি রাস্তার উন্নয়নকাজ হলেও শহীদবাগ, উত্তর শাহজাহানপুরের কয়েকটি সড়কের স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ করার পর আর ঢালাই দেওয়া হয়নি। ফুটপাতজুড়ে অবৈধ অস্থায়ী দোকান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ডের প্রায় সব সড়কের ফুটপাতে মাছ, মুরগি ও মাংসের দোকান বসিয়ে ফায়দা লুটছে কয়েকজন। যেখানে-সেখানে ময়লার কনটেইনার, খোলা স্থানে আবর্জনার স্তূপ। অথচ এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।

রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা সাইফুল্লাহ বলেন, ‘যারা নজর রাখার কথা তারা কাজ করছে না। সেই সঙ্গে আমাদেরও অসচেতনতা রয়েছে। সে জন্য পুরো ওয়ার্ডের পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে।’

সড়ক উন্নয়ন, বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার, পরিকল্পিত খেলার মাঠ, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত ওয়ার্ড চান স্থানীয় লোকজন। বলছেন, ডিজিটাল ওয়ার্ড গড়তে আন্তরিক এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে তারা।

বর্তমান কাউন্সিলর হামিদুল হক (শামীম) বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় সব প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেছি। রাস্তা নিয়ে একটু সমস্যা আছে। এখানকার সব রাস্তা প্রশস্ত করা সম্ভব নয়। যেগুলো করা যেতে পারে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। জায়গার অভাবে কবরস্থান, শিশুপার্ক ও কমিউনিটি সেন্টার নিয়ে কিছু করা যায়নি। তবে ময়লার সেকেন্ডারি স্টেশনের জায়গার জন্য রেলওয়ের ডিজি ও সচিব মত দিয়েছেন। কমিউনিটি সেন্টার নিজেরা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।’

কামরুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘দল সমর্থন দিলে নির্বাচন করব। ২০১৫ সালের নির্বাচনে দল চাইলেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারিনি। এমনটা এবার হবে না। আর নির্বাচিত হলে প্রথমেই ওয়ার্ডের রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেব। বিনোদন কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে উদ্যোগ নেব। অবসরে যাওয়া মুরব্বিদের জন্য লাইব্রেরি করব। আর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থেকে কাজ করব।’

নূরের নবী ভুঁইয়া রাজু বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে বর্তমান কাউন্সিলরের ভূমিকা কম। মাদক নিয়ন্ত্রণ, মসজিদ-মাদরাসায় অনুদান আনা, স্কুল-কলেজের উন্নয়নে তাঁর সঠিক ভূমিকা না থাকায় ওয়ার্ডবাসী বঞ্চিত হয়েছে। দল সমর্থন দিলে জনগণের ভালোবাসায় আমার জয় নিশ্চিত। আর নির্বাচিত হয়ে ডিজিটাল মডেল ওয়ার্ড গড়ার জন্য কাজ করব।’

এ বি এম হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থন চাই। আগে দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছি। এবার দলের সমর্থন পেলে নির্বাচন করব। ওয়ার্ডে অনেক সমস্যা আছে, যার সমাধানও হয়েছে কিছু কিছু। আমি সড়ক ও ফুটপাত নিরাপদ রাখব।’

দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা অন্যায় না করেও ডজনে ডজনে মামলার আসামি। এলাকার মানুষ আমায় ভালোবাসে। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে এবং দলের সমর্থন পেলে নির্বাচন করব। তবে আতঙ্কের বিষয় হলো, ইভিএম পদ্ধতির নামে ডিজিটাল কারচুপি হতে পারে। এর পরও নির্বাচিত হলে রেলওয়ে কলোনিসহ এলাকার উন্নয়নে সর্বাত্মক কাজ করে যাব। কারণ আমি এ এলাকার সন্তান।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা