kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বন্ড দুর্নীতি

আড়াই কোটি টাকার সুতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়াই কোটি টাকার সুতা আটক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ টাস্কফোর্স গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের বংশাল রোড-সুতারপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বন্ড দুর্নীতির ২২ টন সুতা উদ্ধার করেছে। এর মূল্য দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা। এতে শুল্ক-করাদির পরিমাণ এক কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়, গতকাল এনবিআরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের উপকমিশনার রেজভী আহম্মেদ, সহকারী কমিশনার মো. আল আমিন এবং সহকারী কমিশনার আকতার হোসেনের সম্মিলিত টিম নারায়ণগঞ্জ শহরের বংশাল রোড-সুতারপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযানে নামে। এই দলের সঙ্গে স্থানীয় নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট বিভাগ, সিআইডি পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ছিলেন। অভিযান টের পেয়ে শুরুতে অধিকাংশ গুদাম মালিক পালিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পরে গুদাম মালিকদের অনেকে সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অভিযান প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় সুতারপাড়া এলাকার একটি ভবনের গোপন গুদাম থেকে কোরিয়ার এবং ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট প্রায় ২২ টন স্প্যান্ডেক্স ও পলিয়েস্টার-কটন সুতা উদ্ধার করে আটক করা হয়। এসব পণ্য বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত আমদানি করে রপ্তানিতে ব্যবহারের পরিবর্তে অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আটক পণ্যের বিপরীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কশিনার হুমায়ুন কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। প্রতি সপ্তাহেই একাধিক অভিযান চালানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, দেশের যে প্রান্তেই অবৈধ বন্ডেড পণ্য পাওয়া যাবে, তাত্ক্ষণিকভাবে তা আটক এবং মূলহোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগের দিন শুক্রবার এনবিআরের টাস্কফোর্স সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গুদাম থেকে মোট ৩৮ টন এবং গত ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে মোট ১০ টন অবৈধ বন্ডেড সুতা আটক করেছিল।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৎ ব্যবসায়ীরা বন্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বন্ড দুর্নীতিবাজদের সৎ ব্যবসায়ীরা বয়কট করেছেন। এদের ধরিয়ে দিতে আমরা এনবিআরের সঙ্গে আছি। তবে অসৎ ব্যবসায়ীদের একার পক্ষে বন্ড দুর্নীতি করা সম্ভব হয় না। এনবিআরের অনেক অসৎ কর্মকর্তার সহযোগিতায় এ দুর্নীতি করা সম্ভব হয়। তাই এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিষয়েও এনবিআরকে সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা