kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন

১৩৫০০ বুথে ইভিএম ব্যবহারই চ্যালেঞ্জ

► তফসিল ঘোষণা হতে পারে এ মাসেই
► নির্বাচন হতে পারে জানুয়ারির শেষ দিকে

কাজী হাফিজ   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৩৫০০ বুথে ইভিএম ব্যবহারই চ্যালেঞ্জ

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর এ মাসেই যেকোনো দিন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ভোট হতে পারে জানুয়ারির শেষ দিকে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজও শুরু হয়ে গেছে। ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশের পথে। প্রয়োজনীয় জনবল সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে জনবলের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছিল। তবে এই প্রস্তুতিমূলক কাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে দুই সিটির সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.) এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটির সব ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার আমাদের জন্য নিশ্চয় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা সফল হব বলেই আশাবাদী।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার দুই সিটিতে জাতীয় সংসদের ১৫টি আসন এলাকা রয়েছে। এই বিশাল জনবহুল এলাকায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এতে  ভোটকক্ষ থাকছে সাড়ে ১৩ হাজারের কাছাকাছি। ভোটার প্রায় ৫০ লাখ। এ দুই সিটিতে একই সঙ্গে ভোটগ্রহণে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইভিএম প্রয়োজন হবে প্রায় ১৫ হাজার। দেশে এর আগে এত বড় পরিসরের নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার হয়নি।

এর আগে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েও নির্বাচন কমিশন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০০ আসনের মধ্যে ছয়টি আসনে বায়োমেট্রিকস ভেরিফিকেশনে ভোটার শনাক্তের ব্যবস্থাসংবলিত ইভিএমে ভোট নেয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিচ্ছিন্নভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৪ মে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২৭টি কেন্দ্রের ৮৩০ কক্ষের সবকটিতে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়। ব্যবহার করা হয় দুই হাজার ২৬টি ইভিএম। কিন্তু মেয়র পদে একক প্রার্থী থাকায় ওই নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ময়মনসিংহের আগে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। তবে সেই সময় ইভিএমে ভোটার শনাক্তের ব্যবস্থা ছিল না।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম নির্বাচন কমিশনের সংগ্রহে আছে। এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দক্ষতার সঙ্গে সব কিছু ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, ইভিএম ব্যবহারে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। শীতকালীন মহড়া শেষ না হলে সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়াতে সমস্যা হতে পারে। এ কারণেই এ নির্বাচন জানুয়ারির শেষ দিকে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইভিএম ব্যবহারের জনবল সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের প্রশিক্ষক রয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকারের আইসিটিবিষয়ক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো হবে। সশস্ত্র বাহিনীরও সহযোগিতা নেওয়া হবে।’

গত  ৩১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের ৫৩তম সভার আলোচ্যসূচিতে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়টি ছিল। সভাটি মুলতবি করে ৩ নভেম্বর ৫৪তম কমিশন সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই দিন সভা শেষে ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের জানান,  নভেম্বরের ১৮ তারিখের পর যেকোনো দিন ঢাকার দুই সিটির তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ভোট হবে জানুয়ারিতে। এরপর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আর কোনো সভা হয়নি। আগামী ১১ ডিসেম্বর কমিশন সভা থাকলেও ওই সভার এজেন্ডায় ‘ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন’ নেই।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুসারে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ হচ্ছে করপোরেশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। এ বাস্তবতায় ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন উপযোগী সময় গত ১৮ মে থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

কবে নাগাদ এই দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে—এ প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে বিজয় দিবসের পর যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা আর জানুয়ারির শেষ দিকে ভোটের সময় বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতিমূলক সব কাজ শেষ করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা