kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

জরিপে কনজারভেটিভরা এগিয়ে থাকলেও ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আশঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট দিয়েছে ভোটাররা। ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে দুই বছরের মাথায় ফের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটিকে প্রজন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন প্রধান দুই দল কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির নেতারা। ব্রিটিশ রাজনীতিকে ডুবিয়ে দেওয়া ব্রেক্সিট সংকটের রায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনকে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ জন এমপি নির্বাচন করতে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডের সব কয়টি নির্বাচনী এলাকাজুড়ে গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা) ভোটগ্রহণ শেষ হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে লোকজন ভোট দেয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালের মধ্যে বেশির ভাগ আসনের ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাজ্যে প্রতি চার বা পাঁচ বছর পর পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রেক্সিট সংকটের কারণে গত অক্টোবর মাসে এমপিরা আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত হয়। ফলে পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয় দফা সাধারণ নির্বাচনের ভোট নেওয়া হলো। এর আগে ২০১৭ সালের ৮ জুন এবং ২০১৫ সালের ৭ মে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।

দেশটিতে প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ডিসেম্বর মাসে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। আর ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম ব্রিটেনে শীতকালে নির্বাচন হলো। সব শেষ ডিসেম্বরে নির্বাচন হয়েছিল ১৯২৩ সালে।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ৯ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি। তবে ২৩ শতাংশ (দোদুল্যমান) ভোটার মনস্থির করতে না পারায় জরিপ ফল উল্টে যায় কি না, সে প্রশ্নও আছে। তবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ব্রিটেন এবার একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকেই আগাচ্ছে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করে এসেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ নির্বাচনের মাধ্যমে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান বরিস জনসন ও লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিনের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রশ্নে উত্তেজনাকর এক প্রচারাভিযান শেষ হলো। আজ প্রকাশিত হতে যাওয়া ফলাফলই বলে দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের প্রস্থান (ব্রেক্সিট) কিভাবে বাস্তবায়িত হবে কিংবা আদৌ হবে কি না। ২০১৬ সালে ব্রিটিশরা এক গণভোটের মাধ্যমে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিয়েছিল, যা ২০১৯ সালে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বারবার সময় পিছিয়েও এর সমাধান করতে পারেনি কনজারভেটিভ পার্টির টেরেসা মে ও বরিস জনসনের সরকার। জনসন চাচ্ছেন দ্রুত ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে এবং এ জন্য তিনি অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা চেয়ে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে করবিন তাঁর প্রচারাভিযানে বলছেন, তিনি বিজয়ী হলে ব্রেক্সিট প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজন করবেন।

ভোটে অংশ নিতে চার কোটি ৫০ লাখ ভোটার নিবন্ধন করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের আগ্রহ কম থাকাই স্বাভাবিক। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকালের চিত্র অবশ্য সে কথা বলছে না। যদিও বাংলাদেশ সময় ভোররাতে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ খবর জানা যায়নি।

ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে দুই বছরের মাথায় আরেকটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রধান দুই দলের নেতা জনসন (৫৫) ও করবিন (৭০) তাঁদের নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলে আসছে।

এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রেক্সিট ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। এ ছাড়া অর্থনীতির স্থবিরতাও জনগণের কাছে বড় একটি বিষয় ছিল। নির্বাচনের জরিপগুলো বলছে, বিপুলসংখ্যক ভোটার নির্বাচনের এক দিন আগেও মনস্থির করতে পারেনি তারা কাকে ভোট দেবে। ফলে ভোটের দৌড় থেকে করবিনের লেবার পার্টিকে বাদ দিচ্ছে না কেউই। সুত্র : আলজাজিরা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা