kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি পূরণের আশ্বাস প্রার্থীদের

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ১০

জহিরুল ইসলাম   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি পূরণের আশ্বাস প্রার্থীদের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০ নম্বর ওয়ার্ডটি মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, মতিঝিল এইচ টাইপ কোয়ার্টার, পিডাব্লিউডি স্টোর কম্পাউন্ড পোস্টাল কলোনি, মতিঝিল কলোনির আইডিয়াল, আল-হেলাল হাসপাতাল জোন নিয়ে গঠিত। আয়তনে বড় এ ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার, যার মধ্যে ভোটার রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার।

এ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অধিকাংশই সরকারি কর্মকর্তা। স্থানীয় লোকজন বলছে, এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল, সড়কবাতি, কলোনিগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি।

আসন্ন নির্বাচনে ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলর পদে লড়তে চান একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে আছেন বর্তমান কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুর, মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম মোস্তফা জামাল বাদল, বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশীদ, ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু। এ ছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নওশের আলী, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সহিদ রেজা বাচ্চুর নামও আলোচনায় আছে।

দক্ষিণের ওয়ার্ডটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এজিবি কলোনি কাঁচাবাজার সড়কটিতে উন্নয়নকাজের কারণে তৈরি হওয়া খানাখন্দ এখনো ঠিক করা হয়নি। ফুটপাতে ঢালাই করা হলেও সমান করে বসানো হয়নি টাইলস, যার কারণে পথচারীকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ধুলাবালিতেও ভুগছে বাসিন্দারা। ওই সড়কের ফল দোকানদার আব্দুল হান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরে কাজ বন্ধ হইয়া আছে। কবে করবে, কে জানে। ধুলাবালির জন্য বইসা থাকা যায় না।’

আশপাশের কয়েকটি কলোনিতে ঘুরে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এজিবি কলোনির ভেতরের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তূপ। ড্রেনের মধ্যেও ময়লা। দুর্গন্ধের মধ্যেই আবার রয়েছে মশার উপদ্রব, যার কারণে ভবনগুলোর নিচতলার বাসিন্দাদের বেশি কষ্ট হচ্ছে বলে জানায় কেউ কেউ। মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনির ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে রাখা হচ্ছে বাসার ময়লা। পোস্টাল অফিসার্স কোয়ার্টারের বিপরীত পাশের রাস্তায় দেখা যায় ময়লার স্তূপ। দুর্গন্ধে ফুটপাত দিয়ে পথচারীর হাঁটার মতো অবস্থাও নেই। তার ওপর ফুটপাত দখল করেই অস্থায়ী বসতি গড়েছে ভবঘুরে কয়েকটি পরিবার।

কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাইরের বখাটেদের জন্য সন্ধ্যার পর কলোনির পরিবেশ ঠিক থাকছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যার পর কলোনির ভেতরেই বখাটেরা মাদক গ্রহণ করে। কলোনিতে নামসর্বস্ব কমিটি থাকলেও তাদের এসব দেখার সময় নেই। শুধু নেতাদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতেই তাদের সময় পার হয়। এজিবি কলোনির ২৮ নম্বর বাসার সামনের পরিবেশ ময়লামুক্ত দেখে সামনে গেলে আনোয়ার নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ভবনের বিভিন্ন ইউনিটের লোকেরা টাকা তুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ঠিক করেছি, যার কারণে এই বাসার সামনে ময়লা-আবর্জনা নেই।’

কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা জমে থাকে। সুয়ারেজ লাইনে ময়লা পানি জমে থাকে। ওয়াসার পানিসংকটের এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

এলাকার সমস্যা ও সমাধান নিয়ে বর্তমান কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুর বলেন, ‘দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। যদি না দেয়, তবে যাকে দেবে তার জন্য কাজ করব। এই ওয়ার্ডে সরকারি শিক্ষিত লোক থাকে। এখানে রাস্তা ঠিক ছিল না, যা আমি করেছি; পানি সমস্যা ছিল, সমাধান করেছি। সুয়ারেজ সমস্যা ছিল, সেটাও দূর করেছি। কলোনির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিভিন্ন বিভাগের করার কথা। তাদের সঙ্গে মৌখিক কথা হয়েছে। তারা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা রাখবে, যা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়ে যাবে। আমার ওয়ার্ডে মাদকের স্থায়ী কোনো স্পট নেই, তবে ভ্রাম্যমাণ কিছু আছে।’

আরেক প্রার্থী এস এম মোস্তফা জামাল বাদল বলেন, ‘কম জনসংখ্যা ও ভোটারের এই ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়া খুব বেশি কাজ আছে বলে মনে করি না। তবে এলাকার বখাটেদের থেকে কলোনির বাসিন্দাদের স্বস্তি দেওয়া, বখাটেদের কাউন্সেলিং করে সঠিক পথে নিয়ে আনা বড় কাজ হতে পারে। অনেক স্কুল থাকায় সুস্থ পরিবেশ রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জ। কাউন্সিলর হলে তো হবে না, ভালো কাজ করার জন্য সদিচ্ছা লাগবে। দল থেকে সমর্থন পেলে আমি প্রস্তুত।’

আনোয়ার হোসেন লিপু বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে মনে করে দল যদি নির্বাচনে যায়, তবে আমি অবশ্যই সমর্থন পাব। নির্বাচিত হলে পানি, রাস্তাঘাট, মাদক সমস্যার সমাধান করব। সব জায়গায় সড়কবাতি নিশ্চিতের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বসাব, যার মাধ্যমে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। যদিও এখনো মামলার কারণে নিজেরাই বাসায় থাকতে পারছি না। আশা করছি অবস্থার পরিবর্তন হবে।’

বিএনপির আরেক প্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলাম। কী কাজ করেছি, না করেছি তা এলাকার মানুষই বলবে। এবার দল নির্বাচনে গেলে এবং আমায় সমর্থন দিলে সেভাবেই কাজ করে যাব। মাদক, চাঁদাবাজি এখন অনেক বেড়েছে। আবার দায়িত্ব পেলে আগের চেয়ে ভালো পরিবেশ তৈরি করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা