kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজশাহীর টিপু সুলতানের মৃত্যুদণ্ডের রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর টিপু সুলতানের মৃত্যুদণ্ডের রায়

রাজশাহীর বোয়ালিয়ার মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, লুটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এ রায় দেন। এর আগে গত ১৭ অক্টোবর এ মামলায় শুনানি শেষে যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখার আদেশ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার এক আদেশে গতকাল রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মো. মোখলেসুর রহমান বাদল। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম।

বঙ্গবন্ধু, ৩০ লাখ শহীদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা

রায় ঘোষণার আগে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘বিজয়ের মাস চলছে। আর পাঁচ দিন পরেই জাতি মহান বিজয় দিবস, তিন দিন পর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতে যাচ্ছে। রায় প্রদানের প্রাক্কালে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোন ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি। পাশাপাশি তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আশা করছি, তাঁদের মহান আত্মত্যাগের মহিমা সামনে রেখে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জাতি এগিয়ে যাবে।’

এ মামলায় রাজশাহীর বোয়ালিয়ায় সাহেব বাজার ও তালাইমারী এলাকায় হামলা, আটককৃতদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা হলে স্থাপিত সেনা ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতনের পর ১০ জনকে গুলি করে হত্যা, লাশ মাটিচাপা দেওয়া, দুজনকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতন, ১২-১৩টি বাড়ির মালামাল লুট করে আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে মনো, মজিবর রহমান, আব্দুর রশিদ সরকার, মুসা রাজাকার, আবুল হোসেন ও টিপু সুলতান জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। এই ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আব্দুস সাত্তার টিপু ওরফে টিপু সুলতান জীবিত। বাকিরা মারা গেছেন। এ অবস্থায় শুধু টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে ১৯৭৪ সালের ১০ আগস্ট একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি ছাড়া পান। তবে সর্বশেষ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গত বছর ১ জানুয়ারি মতিহার থানার পুলিশ তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকালে তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি।

টিপু সুলতান একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ পরবর্তীকালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পাস করেন। নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর ডিগ্রি কলেজে ১৯৮৪ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এর পর থেকে তিনি আর কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা