kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাস

উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ, ধর্মঘট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ, ধর্মঘট

ভারতের লোকসভায় সোমবার তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই পাস হয় নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএবি)। বিলটি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে আসামসহ উত্তর-পূর্বের পাঁচটি রাজ্য। এই পাঁচ রাজ্যেই গতকাল ১১ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করা হয়। একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষোভ-সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে বিধান ভবন ও সেক্রেটারিয়ট ভবনের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে একদল আন্দোলনকারীর।

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় টানা সাত ঘণ্টা বিতর্কের পর সোমবার মধ্যরাতে সিএবি পাস হয়। মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে শরণার্থী হিসেবে যাওয়া ছয়টি ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিল তোলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। এই তালিকা থেকে মুসলমানদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি ধর্ম হচ্ছে হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে ভারতের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ১১ বছর দেশটিতে থাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। সে সময় ধর্মের উল্লেখ ছিল না। নতুন প্রস্তাবে সে সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে, অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ধর্মের বিষয়টিও। সে হিসাবে প্রতিবেশী দেশ থেকে ২০১৪ সালের আগে যাওয়া এসব ধর্মাবলম্বী লোকজনকে নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত। সে লক্ষ্যেই বিলটি গত সোমবার তোলা হয়। বিলটির পক্ষে পড়ে ৩১১ ভোট এবং বিপক্ষে ৮০ ভোট। আজ বুধবার বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তোলা হবে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পাস হয়।

লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হলে আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরা—এই পাঁচ রাজ্যে গতকাল ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা একযোগে বনেধর ডাক দেয় নর্থ-ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো)। তাদের সমর্থন দেয় কংগ্রেস, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ), অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু), কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি, অল অরুণাচল প্রদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং নাগা স্টুডেন্টসের মতো সংগঠন।

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমারের মধ্যে পড়ে চিঁড়াচ্যাপটা হয়ে থাকা আসামসহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো গোড়া থেকেই এই বিলের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে দলে দলে অমুসলিমরা এসে ভিড় জমালে তাদের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়বে। সংকটে পড়বে তাদের সংস্কৃতি। নেসোর চেয়ারম্যান স্যামুয়েল জিরওয়া সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়ে গেলে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা দলে দলে এসে ভিড় করবে। এতে সাধারণ মানুষ এত দিন ধরে যে দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছে, তাকে অসম্মান করা হবে।’

নেসোর পাশাপাশি, এদিন আসামে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, এআইএসএফ, আইসা, আইপিটিএর মতো ১৬টি বাম সংগঠন।

ধর্মঘট চলাকালে সব সরকারি অফিস বন্ধ ছিল। স্কুল-কলেজ, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল। আন্দোলনের জেরে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে গুয়াহাটি ইউনিভার্সিটি এবং ডিব্রুগড় ইউনিভার্সিটির সব পরীক্ষা। আসাম রেলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিক্ষোভের জেরে একাধিক জায়গায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কামরূপ জেলার রঙ্গিয়ায় নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের ডিআরএমের দপ্তরও ঘেরাও করা হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলকে ‘ভুল পথের বিপজ্জনক মোড়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। বিলটি ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হলে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় এক টুইট বার্তায় বলেন, ভারতের ফ্যাসিবাদী সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সব আইন এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। সূত্র : পিটিআই, এএফপি, এনডিটিভি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা