kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

মাঠে আ. লীগের ৪, বিএনপির ২ জাপার ১

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৭

লায়েকুজ্জামান   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাঠে আ. লীগের ৪, বিএনপির ২ জাপার ১

একটা সময়ে, বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তীকালেও কয়েক বছর যাত্রী ও মালবাহী নৌকা চলাচল করেছে রূপনগর খালে। দখলদারদের লোভের বলি হয়ে সেই খালটি এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। এখন সরু নালাটিও হরেক পদের বর্জ্যে পরিপূর্ণ বিষাক্ত নর্দমা, যার দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায়। এ এলাকাটিই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৭ নম্বর ওয়ার্ড। বৃহত্তর মিরপুরের সবচেয়ে বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ওয়ার্ডে, আবার এখানেই রয়েছে কয়েক শ গার্মেন্ট কারখানাও। কারখানাগুলোতে প্রতি শিফট শেষে কর্মীদের ছুটির সময়টায় পুরো এলাকায় যানজট লেগে যায়, পথ চলতে ভোগান্তি যায় বেড়ে। ওয়ার্ডজুড়ে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসীদের আধিপত্য, নিত্য ঘটছে যৌন হয়রানির ঘটনা। ফুটপাত বেদখলপ্রায়।

এবার সিটি নির্বাচন সামনে রেখে এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের চারজন, বিএনপির দুজন এবং জাতীয় পার্টির একজন। তাঁরা দলীয় সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে আগেভাগেই ছোটাছুটি শুরু করেছেন ভোটারের দুয়ারে। তবে মনোনয়ন দৌড়ে নেই বর্তমান কাউন্সিলর মোবাশ্বের হোসেন। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের আবাস ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারসংখ্যা ৮৬ হাজার ৮৩৩।

মিরপুরের ব্লক এ, বি, রূপনগর আবাসিক এলাকার ১ থেকে ৪৭ নম্বর সড়ক, শিয়ালবাড়ী, হাজী রোড, রাইনখোলা, ফায়ার সার্ভিস থেকে সনি সিনেমা হল এলাকা নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড। বর্তমান কাউন্সিলর মোবাশ্বের হোসেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনীতিতে আরো বেশি সময় দিতে চাই বলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেব না।’

তবে এই ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনপ্রত্যাশীরা হলেন মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন টেনু, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহমেদ স্বপন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আবদুল হাই হারুন ও সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন তালুকদার। এ ছাড়া বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী দুজন হলেন মিরপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসন দুলু ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেন। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকায় আছেন রূপনগর থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাছিরউদ্দিন।

তোফাজ্জল হোসেন টেনু এলাকায় পরিচিত মুখ। এবার দলীয় সমর্থনের জোরালো দাবিদার টেনু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি থাকায় ইভ টিজারও রয়েছে। মাঝে মাঝেই এমন সংবাদ পাওয়া যায়। ওয়ার্ডটিকে শিক্ষাবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নেব, এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টারও নির্মাণ করতে চাই।’ সাবেক ছাত্রনেতা এজাজ আহমেদ স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে এলাকাকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। এলাকায় খেলার মাঠ নেই, কমিউনিটি সেন্টার নেই—এগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেব।’ আবদুল হাই হারুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকায় যানজটের বড় সমস্যা রয়েছে, যানজটের কারণে মানুষের বহু শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, ভোগান্তি হয়—এসবের সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এলাকা থেকে মাদক উচ্ছেদ করার জোরালো পদক্ষেপ নেব।’ বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী দেলোয়ার হোসেন দুলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে তার সমাধানের চেষ্টা করব।’ এখনো দলীয় সমর্থন না পেলেও বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমিই জয়লাভ করব।’ জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী নাছিরউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দিনে দিনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে, মাদকের বিস্তার ঘটছে, সরকারি জায়গা অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। এগুলোর সমাধান করতে হলে এলাকার মানুষের সহযোগিতা দরকার। আমি সেই পদক্ষেপ নেব, যাতে সবাই মিলে সব কিছুর সমাধান করতে পারি।’

রূপনগরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘রূপনগর খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না। শত শত অবৈধ দখলদার গিলে খাচ্ছে খালটিকে। এটি মুক্ত করা গেলে আরেকটি হাতিরঝিল হতে পারে রূপনগর।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা