kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি ৯ বছরেও

ক্ষমতাবহির্ভূত তদন্ত করার অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে

এম বদি-উজ-জামান   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি ৯ বছরেও

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা পড়া অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে ৯ বছর আগে একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে গতানুগতিক পদ্ধতিতে কমিশনের সদস্যদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন না চেয়েই সরাসরি অনুসন্ধান শুরু করায় কমিশনের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান করার আগে সে বিষয়ে সরকার বা সরকারের অধীন সংস্থার কাছে ১৭ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী কমিশনকে প্রতিবেদন চাইতে হয়। কমিশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রতিবেদন না দিলে কমিশন নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান করতে পারবে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন না চেয়েই তদন্ত শুরু করে দেয়। সে ক্ষেত্রে কমিশনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। যেমনটি হয়েছিল যশোরের রজব আলীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে।

অভিযোগ পাওয়ার পর তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হলেও এ বিষয়ে একটি বিধিমালা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিধিমালা না করেই নিজেদের মতো করে সালিসি-বৈঠকের মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি করছে কমিশন। এ অবস্থায় কারণ জানতে চেয়ে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট কমিশন ও সরকারের প্রতি রুল জারি করেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত গত ১১ নভেম্বর এক রায়ে কমিশনকে বিধিমালা তৈরির নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে, আইন কমিশনে এ বিষয়টি পেইন্ডিং নেই।’

কমিশনের সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক আগে কমিশন একটি বিধিমালা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় কাজী রিয়াজুল হকের নেতৃত্বাধীন কমিশন ফের বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে। সেখানে কত দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে, কী পদ্ধতিতে অনুসন্ধান করবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু ওই খসড়া এখনো পাঠানো হয়নি। আশা করছি, বর্তমান কমিশন এটা চূড়ান্ত করবে।’

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিশনকে গতিশীল করতে হলে বিধিমালা করা প্রয়োজন। আমার জানা মতে, এই বিধিমালা অনেক আগেই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক।’

রিট আবেদনকারী মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনকে আরো কার্যকর দেখতে চাই। কমিশনের কাজ নিয়ে কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে সে জন্য বিধিমালা করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করি।’

কাজের সুবিধার জন্য কমিশন আইনের ৩০ ধারায় বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। তবে সে ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে। এই ক্ষমতাবলে কমিশন ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিধিমালা-২০০৯’ তৈরি করে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু সেই বিধিমালা এখনো অনুমোদন হয়নি। এ ছাড়া আইনের ১৫ নম্বর ধারায় সমঝোতার ভিত্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিধিমালা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কমিশন এখনো সেই বিধিমালা করেনি। ফলে গতানুগতিক পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় বিধিমালা করার নির্দেশনা চেয়ে ২০১৩ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ (সিসিবি) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। হাইকোর্ট এরই মধ্যে এক রায়ে বিধিমালা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

২০০৯ সালের ১৪ জুলাই কমিশন আইন করার পর কমিশন গঠন করা হয়। ওই বছর কমিশনে মাত্র দুটি অভিযোগ জমা পড়ে। এ অভিযোগ কিভাবে অনুসন্ধান করা হবে তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে কমিশন একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠায়। কিন্তু তা এখনো অনুমোদন হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা