kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিলেন উপাচার্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিলেন উপাচার্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় সর্বাংশে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ ওঠায় গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সম্প্রতি প্রকল্পের দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ শিক্ষকের রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন উপাচার্য।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হল, অপরাজিতা হল, গেস্টহাউস, লাইব্রেরি ভবনসহ নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন।

এই অবস্থায় গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য জানান, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনের নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই তা নিরূপণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অনুসন্ধানকারী কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনের পুরুত্ব কম হওয়ার প্রমাণ মেলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় একই ঠিকাদার দিয়ে ভবনটির রেট্রোফিটিং (সংযোজন কাজ) করা হয়। এসব কাজের যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। ভবনের দুর্নীতির বিষয়ে খুবি প্রশাসনের গঠিত নির্মাণ সংস্থা ও তদারকি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব নিরূপণের পৃথক দুটি কমিটি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলমান। তবে ওই ভবনে বিদ্যুিবষয়ক দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হলের পুনঃ টেন্ডারের ফলে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর জবাবে উপাচার্য বলেন, আগের ভবনের ত্রুটিগুলোর বিষয় এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনটির নির্মাণকাজ যেহেতু চলমান, সেহেতু ১৯০ জন শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়টি অবাস্তব। উপাচার্য আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে রয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ দুদকের চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করে কেউ পার পেয়ে যাবে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার ব্যাপারে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চলমান প্রকল্প ২০১৬ সালের মে মাসে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজগুলো দুই ভাগে বিভক্ত করা হয় ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সম্পূর্ণ নতুন স্থাপনা নির্মাণ।

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার জবাব : প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে ধীরগতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ডিজাইনে ব্যাপক পরিবর্তন এবং ঠিকাদারদের অসহযোগিতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত বিষয় অনুসরণ করতে গিয়ে অনেকটাই সময় চলে যায় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যা নিরসনেও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তার প্রতিবেদন পেতেও বিলম্ব হয়। এ ক্ষেত্রে কবি জীবনানন্দ দাশ ভবনের নির্মাণ ত্রুটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কাদের গাফিলতি রয়েছে সে ব্যাপারে একটি দায়দায়িত্ব নিরূপণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রায় এক বছর ধরে তার কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। এটা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিত হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ প্রায় সব ভবনেই বিদ্যুৎ কাজে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালাম দুদকে চিঠি দিয়েছেন এবং দুদক কাজও করছে। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের সঙ্গে যেসব প্রকৌশলী যুক্ত ছিলেন, তাঁরা দায়িত্বে অবহেলার জন্য আইনের আওতায় আসবেন। ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে তা অবশ্যই দুদক বিবেচনায় নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাধন রঞ্জন ঘোষ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা