kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সারা দেশে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে জেলা প্রশাসন

প্রথমে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিক্রি করা হবে

এম সায়েম টিপু   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা দেশে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে জেলা প্রশাসন

উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ এনেও বাজারে দাম কমানো যায়নি। টিসিবির পর এবার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সারা দেশে নায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। টিসিবির পাশাপাশি একেবারে উপজেলা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি করার জন্য সব জেলা প্রশাসককে গতকাল রবিবার চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রংপুর ও রাজশাহীর সব জেলায় পেঁয়াজ বিক্রি করবে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলাতেই এ কার্যক্রম শুরু হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম আরো বাড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শুরুতে ঢাকায় ৫০টি ট্রাকে করে এবং প্রতিটি বিভাগে ও বড় কয়েকটি জেলায় পেঁয়াজ বিক্রি করেছে টিসিবি। এখন ঢাকায় ট্রাক বাড়িয়ে ৭০টি করা হয়েছে। এ ছাড়া সব জেলায় বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি।

পেঁয়াজের সরবরাহ বা চাহিদা অনুযায়ী টিসিবি সব জেলায় বিক্রি করছে বলে জানান সংস্থার মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আমদানি) এ কে এম আলী আহাদ খান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রথমে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা এবং উপজেলায় বিক্রি করা হবে। এ জন্য রবিবারই সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে।

কিভাবে বিক্রি করা হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আহাদ বলেন, সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের মাধ্যমে যেসব পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে এগুলোর মধ্য থেকে টিসিবির পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। তবে পেঁয়াজ বিক্রি করবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে বাছাই করে খণ্ডকালীন ডিলার নির্বাচন করা হবে। তাঁরাই বিক্রি করবেন পেঁয়াজ, জেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা দেবে। তিনি জানান, প্রতি জেলায় প্রতিদিন ১০ টন করে পেঁয়াজ দেওয়া হবে। তবে এ পেঁয়াজ টিসিবির মতো ৪৫ টাকায় নয়, বিক্রি করা হবে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কেবল তাদের আমদানি মূল্য রাখবে। এর সঙ্গে যেসব ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিক্রি করা হবে তাদের জন্য কমিশন থাকবে কেজিতে চার-পাঁচ টাকা করে। বাজার যত দিন স্বাভাবিক না হবে তত দিন এ কার্যক্রম চলবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে আট লাখ ১০ হাজার টন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে গত ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত আরো আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এ সময় পর্যন্ত সব মিলিয়ে দেশে মোট পেঁয়াজের সরবরাহ হয়েছে ৩২ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন। অথচ বছরে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা মাত্র ২৪ লাখ টন। ফলে উদ্বৃত্ত থাকার কথা কমপক্ষে আট লাখ ২৬ হাজার টন পেঁয়াজ। এর পরও গত ৫ ডিসেম্বর চার হাজার ১৫৯ টন পেঁয়াজ  দেশে এসেছে। এর মধ্যে টেকনাফ হয়ে এসেছে এক হাজার ২২৯ টন এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হয়ে এসেছে দুই হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন। তা ছাড়া গত শনিবার এসেছে আরো দুই হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা