kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

নেই ভোটের আমেজ, ক্ষোভ আছে বাসিন্দাদের

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৪১

শাখাওয়াত হোসাইন   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেই ভোটের আমেজ, ক্ষোভ আছে বাসিন্দাদের

বাড্ডা থানার দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। পুকুরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, তালতলা, উত্তরপাড়া (পূর্বাংশ ও পশ্চিমাংশ) পাঁচখোলা, মেরুলখোলা, মগারদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম পদরদিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডটি। ওয়ার্ডটিতে ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজারের মতো হলেও দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে এই ওয়ার্ডটি ছিল সাঁতারকুল ইউনিয়নের অধীনে। কিন্তু এখন সিটি করপোরেশনের আওয়ায় এলেও উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি এখানে। নগরায়ণের প্রভাবে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশ। যত্রতত্র গড়ে উঠছে সারি সারি বহুতল ভবন। যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে বেশ ঘাটতি। রাস্তাঘাট, নর্দমা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অবকাঠামো বিবেচনায় অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় বেশ অনগ্রসর ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার এবং বিনোদনকেন্দ্রেরও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে এখানে।

হাসান মুশফিক নামে একজন বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলেও এখানে তেমন কোনো কাজ হয়নি। আগে যা ছিল, এখনো তাই রয়েছে। আসলে বোঝাই যায় না এটা যে ঢাকা শহরের অংশ।’

এদিকে সিটি করপোরেশনের পুরনো ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলেও এ বিষয়ে অনেকটাই নির্বিকার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। প্রার্থীদের তেমন কোনো প্রচারণা না থাকায় ভোটের আমেজ নেই। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মনেও রয়েছে মিশ্র অনুভূতি। জানা গেল, আট মাস দায়িত্ব পালনের সময় তেমন কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ না পাওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে তাঁর। মাত্র ৯ মাস আগে কাউন্সিলর নির্বাচন হওয়ায় আবারও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে খোদ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে অন্তত সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন—এটা জানা গেছে।  

স্থানীয় সূত্র মতে, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন—বর্তমান কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম, বিলুপ্ত হওয়া সাঁতারকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আবদুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ খান, আওয়ামী লীগ নেতা জোনায়েদ আহমেদ ও সাবেক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোতালেব দেওয়ান। এঁরা সবাই আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে নৌকার টিকিট প্রার্থী। তবে সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর কেউই এখনো প্রচারণা শুরু করেননি। ওয়ার্ড সরেজমিনে কোনো প্রার্থীর পোস্টার বা ব্যানার চোখে পড়েনি। অন্যদিকে সাঁতারকুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নবী হোসেন আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।

তবে মুখে কিছু না বললেও মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া বিষয়ে সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলাচলে আছেন। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিষয় না থাকায় আওয়ামী লীগ থেকে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার সবাই আছেন হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায়। দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁকেই সমর্থন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এদিকে আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পষ্ট অসন্তোষ জানালেন বর্তমান কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাত্র ৯ মাস আগে নির্বাচন হয়েছে। কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য। এত অল্প সময়ের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন দিলে আমি জনগণের কাছে কী জবাব দেব? কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ তো আমি করতে পারিনি।’

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. আবদুল মতিন বলেন, ‘সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। ৩০ বছর ডাক্তারি করি। গত নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। দল ও এলাকাবাসী চাইলে আবার নির্বাচন করব। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন বরাদ্দের শতভাগ ব্যবহার করেছি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি। যা পারিনি সেটা ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়ে করতে চাই।’

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নবী হোসেন বলেন, ‘এলাকাবাসীর সমর্থন আছে। দল চাইলে আসন্ন নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা