kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হবে কে

সম্মেলন কাল, নগর উৎসবমুখর

খুলনা অফিস   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খুলনা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হবে কে

খুলনার ঐতিহ্যবাহী সার্কিট হাউস ময়দানে আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘদিন থেকে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের আলাদা সম্মেলন হলেও এবারের ছবিটা একটু ভিন্ন। এরই মধ্যে সম্মেলনের ছোঁয়া লেগেছে নগরজুড়ে। বিশেষ করে লোয়ার যশোর রোডে নির্মিত হয়েছে অর্ধশতাধিক তোরণ এবং সিটি করপোরেশনের সড়কদ্বীপ, বিলবোর্ডগুলো ছেয়ে রয়েছে পুরনো-নতুন নেতাদের প্রচারণায়। কে আসছেন মহানগর কমিটিতে আর কে আসছেন জেলা কমিটিতে—এ নিয়ে নেতাকর্মীদের আলোচনা আর বিশ্লেষণ। তবে নগরের শীর্ষ নেতৃত্বে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না—এমনটা নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। কিন্তু জেলা নিয়ে নানা চমকের কথা ঘুরেফিরে বলছেন তৃণমূল নেতাকর্মী  থেকে সাধারণ মানুষ। এত আলোচনার পরও সবার অপেক্ষা মঙ্গলবার পর্যন্ত। এদিনই চূড়ান্ত হবে কে হবেন খুলনা মহানগর ও জেলার আগামী দিনের কাণ্ডারি।

নগর নেতারা জানান, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ খুলনা মহানগর কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। সম্মেলন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে তালুকদার আব্দুল খালেককে সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ১৯ মাস অপেক্ষার পর ১১ জুন ৭১ সদস্যের এই কমিটির অনুমোদন দেন দলীয় প্রধান। ক্ষমতাসীন দল হলেও সম্মেলনের পর থেকে নিয়মিত সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন নেতাকর্মীরা। নগর সম্মেলনের আগে নগরীর ৩৬ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের পাঁচ-ছয়টি বাদে সব শাখার সম্মেলন শেষ হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের অনেকগুলোতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে অনেকটাই গোছানো মহানগর আওয়ামী লীগ।

এবারের সম্মেলনে মহানগর কমিটির শীর্ষ দুটি পদের মধ্যে নির্ভার বর্তমান সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। এখানে নতুন কারো নাম নেই। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান ছাড়াও বেশ কয়েকজন। তাঁরা হলেন বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও সদর থানা সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ১০ মাস পর ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর ৭০ সদস্যের জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে শেখ হারুনুর রশিদ ও এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা। মোস্তফা রশিদী সুজা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই মারা যান। পরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান গাজী আব্দুল হাদী। তিনিও আকস্মিক মারা যাওয়ায় এখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী। জেলার সাংগঠনিক অবস্থা কিছুটা হলেও নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ ও প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার অনুসারীরা দুটি ধারায় বিভক্ত। সুজা মারা যাওয়ার পরও সে অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং কয়েকটি উপধারার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ অবস্থায় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন বা কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি।

জেলা সম্মেলনে শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এবার চমক থাকতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। উভয় পদেই রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ ছাড়াও আলোচনায় এসেছেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা। এ ছাড়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী নারায়ণচন্দ  চন্দ এমপি।

সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী শক্ত প্রার্থী। আলোচনায় রয়েছেন জেলা যুগ্ম সম্পাদক শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাবু এমপি,  জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম খান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির ববির।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি  ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা