kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রুম্পার মৃত্যু

‘হত্যা’ সন্দেহেই তদন্তে পুলিশ

৪ দিনের রিমান্ডে বন্ধু সৈকত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘হত্যা’ সন্দেহেই তদন্তে পুলিশ

রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পাকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে’ এমন সন্দেহ করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা রুম্পার সাবেক সহপাঠী আব্দুর রহমান সৈকতকে (২২) এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গতকাল চার দিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে। পুলিশ জেনেছে, ঘটনার দিন সৈকত রুম্পাকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বরের পাঁচতলা ভবনটিতে ঢোকেন। সিসি ক্যামেরা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই ভবনে তিনটি পরিবার এবং অন্য ইউনিটগুলোতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও বাইরের কিছু শিক্ষার্থী থাকেন। ভবনটির নিচেই রাস্তায় রুম্পার মৃতদেহ পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

রুম্পার মৃতদেহ উদ্ধারের চার দিন পর গত শনিবার রাতে সাবেক সহপাঠী সৈকতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ আরো বেড়েছে পুলিশের। গতকাল রবিবার তাঁকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দুপুরে সৈকতকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত চার দিন মঞ্জুর করেন।

সৈকতের আইনজীবী আব্দুল হামিদ ভুঁইয়া রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, ‘ঘটনার এক সপ্তাহ আগে সৈকতের বাবা মারা যান। আর দুই সপ্তাহ আগে চাচা মারা যান। এমন পরিস্থিতিতে একজন সন্তান কী করে কাউকে হত্যা করতে পারেন?’ তিনি দাবি করেন, রুম্পার মৃত্যুর সময়টিতে সৈকত তাঁর মায়ের সঙ্গে গোড়ানে ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র বলছে, কয়েক মাস ধরে স্টামফোর্ডের সাবেক সহপাঠী সৈকতের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল রুম্পার। সৈকত বিভিন্ন সময় তাঁকে এড়িয়ে চলা শুরু করেন। রুম্পা সম্পর্ক ঠিক করতে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার আগের কয়েক দিন ঝগড়া আরো বেড়ে যায়। যার কারণে রুম্পার মন খারাপ ছিল। সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় সৈকত খুব একটা যোগাযোগ রাখতেন না। তবে ঘটনার দিন তিনি রুম্পার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তাঁরা সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসায় দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। ডিবি পুলিশের কাছে থাকা সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে সৈকতসহ রুম্পা ওই ভবনে ঢুকছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের সন্দেহ, ভবনে যাওয়ার পর সৈকত তাঁর সহযোগীদের নিয়ে রুম্পাকে বাসার ছাদে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁকে ওই ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনা তদন্তে রুম্পার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানান গোয়েন্দারা। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের ধারণা, রুম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির রমনার জোনাল টিমের পরিদর্শক শাহ মো. আকতারুজ্জামান ইলিয়াস আদালতকে জানান, রুম্পা ও সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দিন দিন তাঁদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে তাঁরা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বাইরে দেখা করেন। তখন কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন সৈকত। রুম্পা বারবার অনুরোধ করলেও সৈকত সম্পর্ক রাখতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের মনোমালিন্য ও বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

এর জের ধরে ওই দিন রাত পৌনে ১১টায় সৈকত তাঁর কয়েকজন সহযোগীসহ রুম্পাকে ৬৪/৪ সিদ্ধেশ্বরীর বাড়িটির ছাদে নিয়ে যান। একপর্যায়ে রুম্পাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এটাই প্রাথমিকভাবে জোর সন্দেহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের একটি বাসার নিচে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করে। পরে জানা যায় তিনি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুম্পা। এরপর থেকেই তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী এবং শিক্ষকরা দাবি করেন, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনও করছেন তাঁরা।

নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল রবিবার দুুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধনটি হয়।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক খান শাহরিয়ার ফয়সালের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সোহেল, আল-আমিন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান, জান্নাত ইসলাম, উম্মে হাবিবা আলভী, সাবিকুন নাহার কেয়া, ইফতি খানসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা