kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নারায়ণগঞ্জে এক কোটি টাকার অবৈধ সুতা জব্দ

বন্ডের সুতা খোলাবাজারে পথে বসছে দেশি শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




নারায়ণগঞ্জে এক কোটি টাকার অবৈধ সুতা জব্দ

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করা সুতা খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। গতকাল রবিবার বিকেলে চালানো এ অভিযানে কয়েকটি গুদাম থেকে ১০ টন সুতা আটক করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এসব পণ্যের আদায়যোগ্য শুল্ক-করের পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধার শর্ত ভঙ্গ করে খোলাবাজারে সুতা ও কাপড় বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে স্থানীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল মালিকরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে লোকসানের ভারে নিঃস্ব হয়ে পথে বসছেন।

এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এ দাবি বিবেচনায় এনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অভিযান পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সোহাগপুর হাটে এক কোটি ৩০ লাখ টাকার ৩৮ টন সুতা বিক্রিকালে আটক করা হয়।

গতকাল ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ুনের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি কমিশনার রেজভী আহমেদ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার আল আমিন, আক্তার হোসেন ও শরীফ মো. ফয়সালসহ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অন্য কর্মকর্তারা।

অভিযান বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার রেজভী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল বন্ডের সুতা অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই বন্ডের সুতা খোলাবাজারে চলে যাওয়ার ফলে দেশীয় শিল্প যথেষ্ট হুমকির মুখে পড়েছে। দেশীয় শিল্প রক্ষার্থে, দেশের রাজস্ব রক্ষার্থে আমরা বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা একধরনের চোরাচালান। এই মুহূর্তে কাউকে আটক করা হয়নি। আমরা এখান থেকে পণ্য আটক করে নিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তী সময়ে তদন্ত সাপেক্ষে কাস্টমস অ্যাক্ট অনুযায়ী ফৌজদারি আইন অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২২৩টি

 অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে আটক যানবাহনের সংখ্যা ৮৫টি, সিলকৃত গুদামের সংখ্যা আটটি, শুল্ক কর ফাঁকির অভিযোগে বিভাগীয় মামলার সংখ্যা ১৫৪টি, এসব মামলায় জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এরই মধ্যে আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ফৌজদারি মামলার সংখ্যা সাতটি, বন্ড লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতের সংখ্যা ৩২৬টি, আর বন্ড লাইসেন্স চূড়ান্ত বাতিল করা হয়েছে ১০টি।

এনবিআর চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে এনবিআর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যেসব উৎস থেকে এবং যাদের মাধ্যমে অবৈধ বন্ডেড সুতার সিন্ডিকেট বাণিজ্য গড়ে উঠেছে, তাঁদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা