kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি সবার

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ৭

জহিরুল ইসলাম   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি সবার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি মানিকনগর ও কাজীরবাগ নিয়ে গঠিত। এই ওয়ার্ডটিতে উন্নয়নকাজ চলমান থাকলেও অনেক ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা। প্রায় ৩৪ হাজার ভোটারের এই এলাকায় নির্বাচনে আগ্রহী সম্ভাব্য প্রার্থীরা দিয়ে চলেছেন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি। স্থায়ী বাজার, কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান, খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার, সড়ক সংস্কার, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা উন্নত করা, গ্যাস সমস্যার সমাধানসহ মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল বাসিত খান বাচ্চু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম শরীফ, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ইকবাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আল মামুন।

আর বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন মুগদা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল হুদা কাজল।

এলাকাবাসী বলছে, উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে রিকশা পর্যন্ত চলতে পারছে না এলাকার সড়কগুলোতে। স্থায়ী বাজার না থাকায় রাস্তা দখল করে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এই ওয়ার্ডে শিশু-কিশোরদের জন্য নেই খেলার মাঠ, বিনোদনকেন্দ্র। অন্যদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বালুর মাঠ, কুমিল্লা পট্টিসহ কিছু স্থানে দেদার বিক্রি হচ্ছে মাদক। ফলে এলাকার তরুণরা ঝুঁকছে মাদকের দিকে।

গত সপ্তাহে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব মানিকনগর বাদশা সড়ক, সরদারবাড়ী মসজিদ গলি, পুকুরপাড় থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কে স্যুয়ারেজ লাইনের কাজের জন্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ইট-বালু। স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ শুরু হলেও এখনো লাগানো হয়নি ঢাকনা। মানিকনগর মূল সড়কের পাশের দোকানি হাসনাত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত মার্চ মাসে কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। এক দিন কাজ করলে বন্ধ থাকে তিন দিন। ফলে এই দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ।’ অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস্পেক অ্যান্ড জেবি অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে কাজ করা অনেক ঝামেলা। এলাকার সবাই ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করতে গেলে সবাই বলে—এভাবে করেন, ওইভাবে করেন। ফলে কয়েকবার প্রকৌশলী বদলাতে হয়েছে।’

মানিকগনর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মডেল স্কুলের মধ্যবর্তী স্থানে স্তূপ করে রাখা হয় ময়লা। ময়লার দুর্গন্ধে ওখানকার শিক্ষার্থীদের ঠিকভাবে ক্লাস করতে সমস্যা হয়। ফাহমিদা নূর নামে স্কুলের এক শিক্ষার্থী থাকে স্কুলের পাশের একটি ভবনে। ওই শিক্ষার্থী জানায়, বাসায়ও দুর্গন্ধ যায়। স্কুলে ক্লাস করতে গেলে গন্ধে নাক বন্ধ হয়ে যায়।

বালুর মাঠ, কুমিল্লা পট্টি ও মানিকনগরে বেচাকেনা হয় মাদক। প্রশাসন চেষ্টা করেও থামাতে পারছে না এই মাদক কারবার। আবার এলাকার গ্যাসলাইন অনেক পুরনো হওয়ায় গ্যাস সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। এলাকাবাসী বলছে, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, স্থায়ী বাজার জরুরি। বিশ্বরোডের পাশে তিন একর জায়গায় কমিউনিটি সেন্টার এবং স্থায়ী বাজার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, বিশ্বরোডের পাশে স্থায়ী বাজার হলে মানিকনগরের বাসিন্দাদের জন্য দূর হয়ে যায়। মানিকনগর মডেল স্কুলের পাশে সিটি করপোরেশনের জায়গায় স্থায়ী বাজার নির্মাণ করা হলে ভালো হয়।

কাউন্সিলর আবদুল বাসিত খান বাচ্চু বলেন, ‘আমার আগের কাউন্সিলর ১৮ বছরে ৬৪ কোটি টাকার কাজ করেছেন। আমি গত সাড়ে চার বছরে ৫৪ কোটি টাকার কাজ করেছি। ১৩ কোটি টাকার কাজ চলমান। আরো ৯ কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব দেওয়া আছে। কিছু কাজ ঠিকাদারদের গড়িমসিতে দেরি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। আমিও এ এলাকার নাগরিক। এই ওয়ার্ডে স্থায়ী বাজার, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, কবরস্থান না থাকায় আমিও অন্যদের মতো বঞ্চিত।’

শামীম আহমেদ ইকবাল বলেন, ‘দল যদি মনোয়ন দেয়, নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সব দাবি পূরণ করব। সবার সুবিধা হয় এমন স্থানে স্থায়ী বাজার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এলাকায় কবরস্থান নেই। কেউ মারা গেলে আজিমপুরে দৌড়াতে হয়। অবহেলিত এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছে না। নির্বাচিত হলে এসব করার উদ্যোগ নেব। মাদক কারবার বন্ধ করব।’

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী এ বি এম শরীফ বলেন, ‘কথার ফুলঝুরি চাই না। দল থেকে সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হলে কাজ করে সবার মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।’

আল মামুন বলেন, ‘আমি নির্বাচন করতে চাই না। তবে সাধারণ মানুষ চাইছে আমি নির্বাচন করি। সবার চাওয়ায় যদি দল থেকে সমর্থন পাই, তবে নির্বাচন করব। নির্বাচিত হলে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করব।’

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সামছুল হুদা কাজল বলেন, ‘যদি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক থাকে এবং জনগণ ভোট দেওয়ার পরিবেশ পায়, তাহলে বিএনপির পক্ষ থেকে সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে মাদক কারবার বন্ধ করা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা