kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

মাঠে আ. লীগের তিন, বিএনপির দুই নেতা

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ১৯

শাখাওয়াত হোসাইন   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাঠে আ. লীগের তিন, বিএনপির দুই নেতা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) গুলশান-বনানী অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই গুলশান ও বনানীর অংশবিশেষ নিয়ে ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। গত কয়েক বছরে ওয়ার্ডটিতে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়েছে। ফুটপাত, নর্দমা ও সড়ক—সব মিলিয়ে ঢাকার অন্য এলাকার চেয়ে এখানকার চিত্র ভালো। উন্নয়ন হয়েছে বেশ কয়েকটি পার্কের। গুলশান-বনানী-বারিধারা পার্কও সেজেছে নতুন রূপে। রাজধানীর এ ওয়ার্ডটির নির্বাচনে সব সময়ই থাকে হেভিওয়েট প্রার্থীর ছাড়াছড়ি। এবার নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের তিনজন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির কোনো নেতা সরাসরি না এলেও কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, কড়াইল বস্তি, পুলিশ প্লাজা, গুলশান, বারিধারা ডিওএইচএস ও নৌ সদর দপ্তরের পূর্বাংশ পড়েছে ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পাড়াও অবস্থিত এ ওয়ার্ডটিতে। ওয়ার্ডটিতে ভোটার সংখ্যা ৭৬ হাজারের মতো হলেও পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বাস। বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশিদেরও পছন্দের জায়গা এ ওয়ার্ডটিই। রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, দেশি ও বহুজাতিক কম্পানির প্রধান কার্যালয়। ওয়ার্ডটিতে খেলার মাঠ ও পার্কও রয়েছে অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি। ছোট-বড় প্রায় ছয়টি পার্ক এবং পাঁচটি খেলার মাঠ রয়েছে। পার্ক ও খেলার মাঠের আধুনিকায়নের কাজও করেছে ডিএনসিসি। তবে আলোর নিচেই ঠিক যেন অন্ধকার! দেশের সবচেয়ে বড় কড়াইল বস্তিও পড়েছে ওয়ার্ডটিতে। স্বল্প আয়ের লক্ষাধিক মানুষ থাকে অবহেলিত ওই বস্তিতে। সব নির্বাচনের আগে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর অঙ্গীকার থাকলেও তেমন কিছুই জোটে না বস্তিবাসীর ভাগ্যে। এবারের নির্বাচনে সব হিসাব-নিকাশ ঠিক করে প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কথা ভাবছে বস্তিবাসী।

মিজানুর রহমান নামে কড়াইল বস্তির এক বাসিন্দা বলেন, ‘ইলেকশনের আগে আইসা আমাদের ভাইগ্য বদলানোর কথা কয় নেতারা। কিন্তু পাস করার পর তেমন কিছুই করে না আমাদের জন্য। ইলেকশন শুরু হইব শুনতেছি। এইবার কমিশনার নির্বাচনে আমরা হিসাব কইরা ভোট দিমু।’

জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও মাঠে প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর নাম ঘুরেফিরে আসছে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান প্রচারে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবনে তিনি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাউন্সিলর হিসেবে নগর ভবনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে নির্মিত বনানীর ফুড কোর্টটি চালু করতে না পারার দায়ও আছে তাঁর ঘাড়ে। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলে তিনি কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

মফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব কয়টি পার্ক ও খেলার মাঠ আধুনিকায়নের কাজ করা হয়েছে। ফুটপাত, ড্রেন এবং রাস্তাও বেশ ঝকঝকে। দল থেকে মনোনয়ন পেলে আবারও কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হব।’

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সুলতান হোসেনও নির্বাচনে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চান। প্রবীণ এ নেতা এর আগেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। গুলশান থানা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন। তবে দলের মনোনয়ন না পেলে নির্বাচনে যাবেন না বলে সুলতান জানিয়েছেন।

বনানী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন আসন্ন নির্বাচনে। পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে পরিচিতি আছে তাঁর। ছাত্রলীগের তিতুমীর কলেজ ও মহানগর উত্তর শাখায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন আজাদ। অন্য দুই প্রার্থীর তুলনায় বয়সে তরুণ এ নেতা নির্বাচিত হলে তিনি এলাকাটিকে ডিজিটাল ওয়ার্ডে পরিণত করতে চান।

মাহমুদ হাসান আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা আছে। তবে তা অবশ্যই দলের সম্মতি নিয়ে। আমার চেয়ে অধিকতর যোগ্য কোনো প্রার্থীকে দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই তাঁকে সহযোগিতা করব।’

এদিকে গুলশান থানা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুলশান থানা বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসাইন ভূঁইয়া প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতবারের নির্বাচনে ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর পদে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ ছাড়া গুলশান থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলামও রয়েছেন দলটির মনোনয়ন দৌড়ে। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনিও প্রার্থী হতে চান কাউন্সিলর পদে।

ফারুক হোসাইন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বছর দলের প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম আমি। এবারও দল মনোনীত করলে নির্বাচনে অংশ নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা