kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

কুষ্টিয়া কারাগার

বন্দি জঙ্গিদের সঙ্গে সখ্যসহকারী প্রধান কারারক্ষীর!

► নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
► মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেশন ও শিক্ষা ভাতা উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্দি জঙ্গিদের সঙ্গে সখ্যসহকারী প্রধান কারারক্ষীর!

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সহকারী প্রধান কারারক্ষী ইলিয়াস হোসেন। তাঁর কোনো সন্তান না থাকলেও দুই সন্তান দেখিয়ে প্রতি মাসে তিনি রেশন নিয়ে যাচ্ছেন। ‘সন্তানদের’ জন্য নিচ্ছেন শিক্ষা ভাতা। অভিযোগ রয়েছে, কারা অভ্যন্তরে দাগি আসামি ও জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা আছে এমন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর গভীর সখ্য আছে; জেএমবির চার বন্দির প্রতি রয়েছে বিশেষ দুর্বলতা। আর তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মনির ওরফে গাঁজা মনির নামে পরিচিত আরেক কারারক্ষী। মনিরও কারা অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

সাধারণ কয়েদিদের অভিযোগ, ইলিয়াস হোসেন, মনিরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কারাগারে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন যাঁরা কুষ্টিয়া কারাগারে মাদক সরবরাহসহ  বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন হাজতি ও কয়েদিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ মাসে আগে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শাস্তিমূলক বদলি হয়ে কুষ্টিয়া কারাগারে আসেন সহকারী প্রধান কারারক্ষী ইলিয়াস হোসেন। এখানেও তিনি নিজের সব অপকর্ম ধামাচাপা দিতে শীর্ষস্থানীয় কারা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে নানা অভিযোগ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে হয়রানিসহ অনিয়ম, দুর্নীতি শুরু করেন। কারাগার সূত্র জানায়, ইলিয়াস হোসেন যেখানেই যান সেখানেই নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এ ধরনের কৌশল নেন এবং নিজের উদ্দেশ্য সাধন করেন। কুষ্টিয়ায় আসার আগে থেকেই তিনি তথ্য গোপন করে সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই সদস্যের রেশন ও শিক্ষা ভাতা নিয়ে আসছেন। তাঁর সঙ্গে জেএমবির কয়েকজন দাগি আসামির ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি কারা কর্মকর্তাদের নজরেও এসেছে।

কারাগারের কয়েদিরা জানান, ইলিয়াস দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। তাঁকে সাতক্ষীরা থেকে কুষ্টিয়া পাঠানোর সময় বিশেষ পাহারা দিয়ে নিয়ে আসা হয়। যে ধরনের অপরাধের কারণে তাঁকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়, এখানে এসেও তিনি একই ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাঁর কিছুই করতে পারছে না।

কারাগারের একাধিক সূত্র জানায়, কারারক্ষী মনিরের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। মাদকমুক্ত কারাগার ঘোষণা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট করে মনির কুষ্টিয়া কারাগারের ভেতরে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এ সিন্ডিকেটে নুরুজ্জামান, মামুন, আকিদুল, সাইফুল ও আরো কয়েকজন জড়িত। নুরুজ্জামান কারাগারের ক্যান্টিন দেখাশোনা করার কারণে খাবারের দাম ইচ্ছামতো বেশি নিয়ে থাকেন। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেন কুষ্টিয়া কারাগার পরিদর্শনের সময় এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও এখনো ক্যান্টিনের কোনো খাবারের দাম কমানো হয়নি। নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ খাবারসহ নিত্যপণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তা মানা হচ্ছে না।

কুষ্টিয়া কারাগারের জেলার আমিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইলিয়াসের নানা অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কাছেও অভিযোগ আসছে। আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। একই সঙ্গে অন্যদের বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখব।’

অভিযুক্ত ইলিয়াস হোসেন ও মনিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে চাননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা