kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আওয়ামী লীগের সম্মেলন

কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সংঘর্ষ বগুড়ায় হট্টগোল ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সংঘর্ষ বগুড়ায় হট্টগোল ভাঙচুর

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গতকাল নতুন কমিটি ঘোষণার সময় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার বরুড়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ি হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়াধাওয়ি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়েছে। বগুড়ায় কমিটির ঘোষণার সময় চেয়ার ভাঙচুর হয়েছে। গতকাল শনিবার এ তিন জেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, আগুন : গতকাল সকালে বরুড়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এলাকায় একই স্থানে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সম্মেলন ডাকা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য ও সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর পরই সম্মেলনস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

দলীয় সূত্র জানায়, বরুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের এই তারিখ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলামের সমর্থক নেতাকর্মীরাও একই দিন, একই স্থানে পৃথকভাবে সম্মেলন করার ঘোষণা দেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে সংঘাতের আশঙ্কায় সকালে সম্মেলনস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। এর আগেই দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে মইনুল ইসলামের সমর্থকরা।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য হলেন বরুড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দোলন। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল আমাদের না জানিয়ে সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন।’

তবে নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। আমরা ওই স্থানে সম্মেলন আহ্বান করি অনেক আগেই। তবে ওইখানে আওয়ামী লীগের অন্য কেউ সম্মেলনের ডা দিয়েছে কি না, সেটা আমি জানি না।’

চট্টগ্রামে সংঘর্ষ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি : চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয় গতকাল সকাল ১০টার দিকে। এর আগেই মঞ্চের সামনের দিকে বসাকে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ও শেখ আতাউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ হয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে তাদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন না।

বগুড়ায় চেয়ার ভাঙচুর : গতকাল বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। সকাল ১১টায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। বিকেল ৪টার দিকে সম্মেলন শেষ হয়। এর আগে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা কমিটি ঘোষণা করার সময় মঞ্জুরুল আলম মোহনের সমর্থকরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই মাঠের চেয়ার ভাঙচুর করে এবং ছুড়ে ফেলে। এ সময় মাইকে তাদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কথা শোনেনি। শেষ পর্যন্ত নাম ঘোষণার পরপরই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান।

বগুড়ায় নতুন কমিটি : বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদায়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, সহসভাপতি টি জামান নিকেতা, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন, আসাদুর রহমান দুলু, সাগর কুমার রায় ও অর্থবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলনের নাম ঘোষণা করেন মোহাম্মদ নাসিম।

এর আগে সম্মেলন উদ্বোধন করে বক্তব্য দেন নাসিমসহ অন্য অতিথিরা। জিয়াউর রহমান জাতীয় চার নেতা হত্যার পরিকল্পনাকারী বলে অভিযোগ করে নাসিম বলেন, ‘দেশকে রাজনীতিশূন্য করতে জিয়াউর রহমান জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। জিয়া মূল খলনায়ক। তদন্ত কমিশন গঠন করে জিয়াউর রহমানের বিচার করতে হবে। না হলে দেশের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকবে।’

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা