kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

আলোচনায় ঘুরেফিরে দুই দলের পুরনোরাই

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ১৭

তানজিদ বসুনিয়া   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলোচনায় ঘুরেফিরে দুই দলের পুরনোরাই

রাজধানীর শুক্রাবাদ, তল্লাবাগ, সোবহানবাগ, লেক সার্কাস কলাবাগান, গ্রিন রোড পশ্চিম, গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার, উত্তর ধানমণ্ডি, বশির উদ্দিন রোড, উত্তর ধানমণ্ডি ও আবেদ ঢালী রোড এলাকা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। তিন লাখ লোকের বাস এই ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ভোটার ৪৮ হাজার।

অবস্থানগত কারণে ওয়ার্ডটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে। সেই সুবাদে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলেই বাড়তি গুরুত্ব পায় ওয়ার্ডটি। কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থনে ভোট করতে থাকেন নেতারা। আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে এবার আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন ও বিএনপির একজন।

গত সিটি নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহমেদ ঢালী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাইদুর রহমান সাঈদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে সবার আগে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মাহবুব ও সিনিয়র সহসভাপতি মাহে আলম। ক্ষমতাসীন দলটির তিন মনোনয়নপ্রত্যাশীই দলীয় সমর্থন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। শুরু করেছেন গণসংযোগও। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো সেভাবে প্রচারের কাজ শুরু হয়নি।

এদিকে আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হলেও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভোটারদের কেউ কেউ জনপ্রতিনিধিদের ওপর আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরেন। আবার অনেকে আগামী ভোটের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামীতে নির্বাচিত কাউন্সিলরের হাত ধরে ওয়ার্ডে উন্নয়নকাজ দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

উত্তর কলাবাগানের মুদি দোকানি গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে ব্যক্তি জনগণের জন্য কাজ করবেন, ভোটার হিসেবে আমরা তাঁকেই চাইব। রাস্তাঘাট মেরামতে গুরুত্ব দেবেন, ডেঙ্গু-জলাবদ্ধতার মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করবেন—এমন একজন কমিশনার চাই।’

এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম হাসান বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে এ বছর অনেক দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছে। আবার বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলবদ্ধতার ভোগান্তি দেখা দেয়। আমরা আশা করব, কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত ব্যক্তি এসব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।’ শুক্রাবাদ এলাকার এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘নির্বাচন আইলেই প্রার্থীগো সচেতনতা বাড়ে। ওয়ার্ডে কী কী সমস্যা আছে তারা তা জানতে চায়, কাজ করতে চায়। কিন্তু ভোটের পর তারা সবই ভুইলা যায়। এই এলাকায় একটু বৃষ্টি হইলেই পানি জমে। কিন্তু এত দিনেও কোনো কাজ হয়নি।’

বর্তমান কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহমেদ ঢালী বলেন, ‘আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, মাতৃসদন, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করাসহ আধুনিক ও ডিজিটাল এলাকা হিসেবে এই ওয়ার্ডকে গড়ে তোলা আমার লক্ষ্য। ডেঙ্গু নিয়ে আগে থেকেই কাজ করছি। এবার দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হলে লক্ষ্য পূরণে নিরলস কাজ করব।’

গত বছর বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন সাইদুর রহমান সাঈদ। আলোচনায় রয়েছেন এবারও। তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে এই ওয়ার্ডে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানে খেলাধুলার মাঠ নেই। দল সমর্থন করলে এবং ওয়ার্ডের জনগণ চাইলে নির্বাচনে দাঁড়াব। আর নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে এলাকার জলাবদ্ধতা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। পাশাপাশি মশা নিধন, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও শিশুদের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করা হবে আমার লক্ষ্য।’

মাহাবুবুর রহমান মাহাবুব বলেন, ‘জনগণের চাহিদা অনুযায়ী রাস্তাগুলো প্রশস্ত করব, ল্যাম্পপোস্টের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করব। ময়লা-আবর্জনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং মাদক নির্মূলে কাজ করব।’

মাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমি জলাবদ্ধতা, মাদক, রাস্তাঘাটের অনুপযোগিতা নিয়ে কাজ করব। সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে মাদক নির্মূল করতে কাজ করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা