kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

প্রচারে আওয়ামী লীগের ৭, বিএনপির ২ নেতা

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৮

লায়েকুজ্জামান   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রচারে আওয়ামী লীগের ৭, বিএনপির ২ নেতা

চৌহদ্দি, অধিবাসী ও ভোটারসংখ্যার হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৮ নম্বর ওয়ার্ড অন্যতম একটি। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের এ, বি, সি, ডি, এইচ ও নিউ সি, উত্তর বিশিল, সারেংবাড়ী, নবাবের বাগ, বালুর মাঠ, গোড়ান, লাল টেক, লাল মাঠ ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকা নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও হযরত শাহ আলীর মাজারের অবস্থান এই ওয়ার্ডে। দুই লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ওয়ার্ডে ভোটারসংখ্যা ৭৬ হাজার ৭৬৬।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছেন বড় দুই দলের ৯ নেতা। তাঁদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাতজন এবং বিএনপির দুজন। যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে প্রত্যেকেই নিজ দলের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আবার দল সমর্থন না দিলেও ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার আভাস দিয়েছেন কেউ কেউ।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণায় আছেন বর্তমান কাউন্সিলর কাজী টিপু, তাজু দেওয়ান, আবদুল মান্নান শেখ, মফিজুর রহমান শুভ, শেখ মামুন, আমজাদ হোসেন জুয়েল ও আবুল কাশেম মোল্লা। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন সোলায়মান দেওয়ান ও সাজ্জাদুল ইসলাম মিরাজ।

প্রার্থিতা নিয়ে এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগে রয়েছে তীব্র বিরোধ। এক পক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকের এবং অন্য পক্ষ সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থক। অন্তঃকোন্দলের কারণে বিগত সিটি নির্বাচনেও এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে এবার শুধু দলীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর না করে বেশির ভাগ সম্ভাব্য প্রার্থী ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন বলে জানান উত্তর বিশিলের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক সোলায়মান আলী।

বিগত সময়ে এই ওয়ার্ডে বেশ কিছু উন্নয়নকাজ হলেও স্থানীয় লোকজনের নানা অভিযোগ রয়েছে। নিউ সি সেকশনের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ওয়ার্ডে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। ড্রেনেজব্যবস্থা খুব খারাপ, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। মাদকের ছোবল তো আছেই।

তবে বর্তমান কাউন্সিলর কাজী টিপু বলেন, ‘গত নির্বাচনের আগে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়েও এলাকায় বেশি উন্নয়নকাজ করেছি। দলের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

প্রার্থিতা নিয়ে এবার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাজু দেওয়ান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গনসহ দরিদ্র মানুষকে তিনি অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। তাঁর আরেকটি পরিচিতি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে। তাঁর বড় ভাই মহিউদ্দিন দেওয়ান মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। মামা শাহনেয়াজ দেওয়ান দীর্ঘদিন এলাকার কাউন্সিলর ছিলেন।

তাজু দেওয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পারিবারিকভাবেই ব্যবসার আয়ের একটি অংশ আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করি। তবে দেখেছি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলে সংগঠিতভাবে কাজগুলো করা যায়। সমস্যা চিহ্নিত করে এলাকার উন্নয়ন করা যায়।’

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান শেখ ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড (রাজনৈতিক ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগের সভাপতি। একসময়ে জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন জাপানে ছিলাম। কাউন্সিলর হতে পারলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন করব।’

সাবেক ছাত্রনেতা শেখ মামুন এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত রয়েছেন। বিগত নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার দলের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলর হলে মাদক নির্মূল ও জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দেব।’

আবুল কাশেম মোল্লা বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার আশা করছেন দল তাঁকে সমর্থন দেবে।

শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ কবে এলাকা মাদকমুক্ত করা।’

বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী শাহ আলী থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব। দলের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়লাভ করব।’

বিএনপির অপর সম্ভাব্য প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম মিরাজ বলেন, ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমার পরিবার এই দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আশা করি, দল আমাকে প্রার্থী করবে। আর এটা বলতে পারি, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়লাভ করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা