kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রুম্পা হত্যার শিকার কি না জানা যায়নি

কয়েক ঘণ্টা আগে বাসার নিচে গিয়ে নিজের জিনিসপত্র রেখে আসেন

জহিরুল ইসলাম   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রুম্পা হত্যার শিকার কি না জানা যায়নি

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২১) মৃত্যু ঘিরে সৃষ্ট রহস্যের জট খোলেনি তিন দিনেও। গত বুধবার রাতে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের এক গলি থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করা হয়। আশপাশের কোনো ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সে সময় রুম্পার পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বজনরা মর্গে গিয়ে তাঁর লাশ শনাক্ত করে। পরে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিজয়নগরে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার সন্ধ্যায় রুম্পা তাঁদের শান্তিবাগের বাসার নিচে চাচাতো ভাই সুমনকে (১২) ডেকে এনে হাতে থাকা আংটি, কানের দুল, মোবাইল ফোনসেট, পায়ের জুতাসহ দামি সব  জিনিসপত্র তাঁর মাকে পৌঁছে দিতে বলেন। সেই সঙ্গে বলেন, ‘মাকে বলিস আমার আসতে দেরি হবে। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। বিচার চেয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে মানববন্ধন করেছেন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। সিদ্ধেশ্বরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের ফটক থেকে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখনো তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে হত্যা মনে হওয়ায় পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

সরেজমিনে গিয়ে গতকাল জানা যায়, গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্বেশ্বরী সার্কুলার রোডের তিনটি বাসার মাঝখানে ওপর থেকে কিছু একটা পড়ার শব্দ হয়। আশপাশের মানুষ বের হয়ে দেখেন রুম্পার লাশ (তখনো পরিচয় মেলেনি)। পাশের ভবনে থাকা এক চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে এসে রুম্পার পালস পরীক্ষা করে দেখেন যে তরুণীটি মারা গেছেন। তখন পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, রুম্পা রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মালিবাগের শান্তিবাগে ২৫৫ নম্বর বাসায় মা নাহিদা আক্তার ও ভাই আশরাফুল আলমের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে মরদেহ পাওয়া গেছে সেখানে রুম্পা অথবা তাঁর পরিবারের পরিচিত কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো তেমন কিছু পাইনি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রুম্পার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। তখন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সন্দেহ প্রকাশ করেন যে রুম্পা ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা