kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাথরঘাটায় সেই ‘মৃত’ ফারুক ঢাকায় গ্রেপ্তার

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাথরঘাটায় সেই ‘মৃত’ ফারুক ঢাকায় গ্রেপ্তার

বরগুনার পাথরঘাটায় স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত দাবি করা মো. ফারুক আকন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে গিয়ে তাঁকে প্রথমে নিখোঁজ এবং পরে মৃত দাবি করে অজ্ঞাতপরিচয় একটি লাশ তাঁর দাবি করে দাফনও করেছিল পরিবার। অবশেষে ফারুকের সন্ধান পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৮ দিনের এক অভিযানে পুলিশের জালে ধরা পড়েন ফারুক। গত বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, বরগুনার পাথরঘাটা বিষখালী নদীতে জেলেদের জালে হাত-পা বাঁধা ও মস্তকবিহীন লাশ নিজের দেবর ফারুকের মৃতদেহ শনাক্ত করে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে দাফন করেছিলেন মৃতের ভাবি রেহানা বেগম।  কিন্তু ঘটনাচক্রে প্রমাণিত হয় মস্তকবিহীন লাশটি বরগুনা সদর উপজেলার মো. সোহেল খানের। কিন্তু হত্যা মামলার সুরাহা করতে মাঠে নামে পুলিশ এবং ধরে ফেলে ফারুককে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে ঢাকায় আটক করার পর বিকেলে বরগুনার আদালতে হাজির করে রিমান্ডে চাওয়া হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

পাথরঘাটা থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জালিয়াঘাটা গ্রামের রেহানা বেগম গত ৩০ জুলাই পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি তাঁর দেবর ও জালিয়াঘাটা গ্রামের মৃত হাতেম আলী আকনের ছেলে মো. ফারুক আকন ৬ জুলাই থেকে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করেন।

 একপর্যায়ে নিখোঁজ ফারুকের ভগ্নিপতি মো. হানিফাও পাথরঘাটা থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ না করলেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের কথা বলা হয়।

থানায় অভিযোগের ১০ দিন পর পাথরঘাটার বিষখালী নদীতে জেলেদের জালে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা ও মস্তকবিহীন লাশ পাওয়া যায়। এ সুযোগে স্বজনরা ওই লাশটি ফারুক আকনের বলে শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে দাফন করে।

অন্যদিকে এই লাশ দাফনের ১৫ দিন পর বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আ. রহিম খানের ছেলে মো. সোহেল খানের লাশ বলে দাবি করেন মা লাইলি বেগম। পাথরঘাটা থানায় সংরক্ষিত লাশের সঙ্গে থাকা সাইকেলের চাবি ও জামা দেখে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। পরে ডিএনএ টেস্টে এর প্রমাণ মিললে আদালতের মাধ্যমে লাশ উত্তোলন করে সোহেলের নিজ বাড়িতে নিয়ে পুনরায় মৃতদেহটি দাফন করা হয়।

মস্তকবিহীন লাশের পরিচয় নিশ্চিত হলে পুলিশ তদন্তে নামে জোরেশোরে। নিখোঁজ ফারুক অন্তর্ধানের রহস্য উদ্ঘাটনের সূত্র খুঁজতে সন্ধান মেলে ফারুক আকনের। কখনো ঢাকায়, কখনো নোয়াখালীতে তিনি ফেরি করে ডিম বেচাসহ নানা কাজে জড়িত ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ জানতে পারে নিখোঁজ বলার পরও ফারুক তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন। এরপর পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাঈদ আহমেদ ফারুককে ধরতে রাজধানীতে অভিযান চালান। কিন্তু ফারুক দ্রুত স্থান বদল করায় তাঁকে ধরা যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভাটারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন তিনি।

পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাঈদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছেন যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর জন্য তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে রিমান্ডে চেয়েছে। তাঁকে মস্তকবিহীন লাশের ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অপরকে ফাঁসানোর জন্য অভিযোগ আনা হবে। আগামীকাল রবিবার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা