kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন

ভারতের কারণে দুশ্চিন্তা চায় না বাংলাদেশ

ভারতের হাইকমিশনার বললেন, একাত্তরে ভারত পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভারতের কারণে দুশ্চিন্তা চায় না বাংলাদেশ

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো নিবিড় হওয়ার প্রত্যাশা জানানোর পাশাপাশি ভারতের কিছু উদ্যোগের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে শঙ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ওই ইঙ্গিত দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে  এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে আগামীতে আমাদের সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে নিবিড় থেকে নিবিড়তম হবে। সেই সঙ্গে আমাদের দেশের জনগণের প্রত্যাশা যে বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।’

ওই সময় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। ভারত কী করলে ‘উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি’ হতে পারে সে বিষয়ে কিছু বলেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিক তালিকা বা এনআরসি হালনাগাদ, কথিত বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। এ ছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায়ও এনআরসি প্রসঙ্গ এসেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সকালে যে আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন তার আয়োজক একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি। বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ওই সভায় বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করছি। তা ছাড়া ভারতের সোনিয়া গান্ধী ও প্রণব বাবু—ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফর করবেন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে ভারত ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ভারত সরকার ও ভারতের জনগণের অবদানের কথা আলোচনা করা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সদস্য শহীদ এবং আরো অনেকে আহত হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় অনেক সেনা সদস্যকে সম্মাননা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ১২ সদস্যের পরিবারের হাতে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা তুলে দেন। অবশিষ্ট এক হাজার ৫৮২ জন শহীদ ভারতীয় সেনা সদস্যকেও সম্মাননা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার ৩৮০ জন শহীদ ভারতীয় সেনা সদস্যের জন্য সম্মাননা স্মারক প্রস্তুত করেছে, যা শিগগিরই ভারতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশ দীর্ঘ দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়েছিল। একাত্তরে যা যা ঘটেছিল এবং বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের কথা আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’ তিনি বলেন, ‘ভারত তার নিজস্ব সম্পদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে প্রায় এক কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়েছিল। আমাদের সৈন্যরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। আমি বলব, বন্ধুরা একে অপরের জন্য এটাই করে। একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ভারতের সেনারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়ে যে বন্ধন রচনা করেছে তা চিরকালীন এবং সময়ের পরীক্ষায় সব সময় উত্তীর্ণ হবে। স্বাধীনতাসংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতা করতে পেরে ভারতের জনগণ গর্বিত।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের কাছে প্রতিবেশীরাই প্রথম। আর সেই প্রতিবেশীদের মধ্যে ভারতের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার শত্রু থাকতে পারে; কিন্তু ভারত বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে গর্বিত। কারণ ভারতের নীতি হলো সবাইকে নিয়ে এগিয়ে চলা।

সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য এই অঞ্চলে ভারত বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস ১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি সাবরুমে খাবার পানির জন্য ফেনী নদী থেকে পানি তোলার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একাত্তরে সাবরুমের জনগণ বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়েছিল। আজ ওই এলাকার লোকদের সামান্য খাবার পানি দেওয়া নিয়ে সমালোচনা অযৌক্তিক।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, একাত্তরে যারা বাংলাদেশ চায়নি এবং এখনো বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে তারাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চরম শত্রু।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা