kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

সড়ক প্রশস্ত করার আশ্বাস সবার

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ৫

জহিরুল ইসলাম   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সড়ক প্রশস্ত করার আশ্বাস সবার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধান সমস্যা যানজট। প্রধান সড়কসহ অলিগলি সরু হওয়ায় সমস্যার শেষ নেই। এ ছাড়া এই ওয়ার্ডে কোনো কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, হাসপাতাল ও কবরস্থান না থাকায় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোটার তথা বাসিন্দারা। তাই চিহ্নিত এ সমস্যাগুলোর সমাধান আগে চান তাঁরা। আসন্ন ডিএসসিসি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এসব সমস্যার কথা বলছেন। সড়ক প্রশস্ত করাসহ সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন তাঁরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সবুজবাগ থানায় পড়েছে ডিএসসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড। মায়াকানন, সবুজবাগ, উত্তর মুগদাপাড়া ডেপুটি কলোনি, আহম্মেদ বাগ, রাজারবাগ উত্তর ও দক্ষিণ, কদমতলা বাসাবো, পূর্ব বাসাবো নিয়ে এই ওয়ার্ড বিস্তৃত। এখানে প্রায় দুই লাখ মানুষের বাস, ভোটারসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার।

ডিএসসিসির অন্য ওয়ার্ডগুলোর মতো ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ না হলেও একজন অন্যজনকে মনে করছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে বিএনপি নেতাদের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশ্রাফুজ্জামান ফরিদ, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ আকন্দ। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজারবাগ মূল সড়ক, রাজারবাগ বাগপাড়া সড়ক, বাসাবো বাজার সড়কসহ বেশির ভাগ অলিগলি অপ্রশস্ত হওয়ায় যানজট লেগে আছে। বৌদ্ধ মন্দিরের পাশের গলিতে চলছে স্যুয়ারেজ লাইনের উন্নয়নকাজ। তাই সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। মন্দিরের পাশের অন্য গলিতে যানজট লেগে আছে। এর মধ্যে আছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং প্রাইভেট কার। কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে আহম্মেদ বাগ যাওয়ার রাস্তাটিও একেবারে সরু। মাত্র আট ফিটের কাছাকাছি চওড়া এই সড়কের মতো বেশির ভাগ সড়কেই যানজট থাকে বলে জানায় এলাকাবাসী। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘বৌদ্ধ মন্দির থেকে রাজারবাগ কালীবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি রাজউকের মানচিত্রে ৬০ ফিট উল্লেখ করা। অথচ বাস্তবে সর্বোচ্চ ৩৫ ফিট, সর্বনিম্ন ১৭ ফিট। এ ছাড়া আট ফিটের রাস্তাগুলো ১২ ফিট থেকে ২০ ফিট চওড়া না করলে ভোগান্তি কমবে না। নির্বাচনের আগে সবাই কাজ করবে বললেও পরে আর করে না।’

মাদক সমস্যাও আছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ঘনবসতিপূর্ণ রাজারবাগ এবং বাগপাড়া, কদমতলা ৯ ও ১০ নম্বর গলিতে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি। বাগপাড়ার মাজহার আলী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর পর অপরিচিত যুবকদের দেখা যায়। তারা কোথা থেকে আসে, কারা আসতে বলে তা আমরা না জানলেও যারা জানার তারা তো জানে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’

জানা যায়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের সমস্যা বাড়তে থাকে। সুষ্ঠু স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে জানান কোনো কোনো এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা সাবরিনা রাহা বলেন, ‘এখন তো চলতে পারছি। বৃষ্টি হলে ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। তখন বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। পাশের জিরানী খালটি অবৈধ দখল-দূষণের কারণে পানি সরতে পারে না।’

ভোটারদের সঙ্গে থেকে সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আশ্রাফুজ্জামান ফরিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দল সমর্থন দিলে নির্বাচন করতে চাই। মাদক, সড়কবাতি, ময়লা-আবর্জনা সমস্যা প্রায় ৯০ শতাংশ সমাধান করেছি। জনগণের দাবি কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ এবং কবরস্থান করতে পারিনি। নির্বাচিত হলে তাদের দাবি পূরণ করব। মায়াকানন মসজিদ গলি, রাজারবাগ-বাগপাড়া মূল সড়ক এবং আশপাশের গলি রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা জরুরি।’ লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘দলের সমর্থনে নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রথমে সুস্থ ধারার সামাজিক অবস্থা সৃষ্টি করতে কাজ করব। নাগরিক সুবিধার অন্যতম হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা। অথচ এই ওয়ার্ডের মানুষ তা থেকে বঞ্চিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও আমরা পিছিয়ে। সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছে না। আমি নির্বাচিত হলে বাসাবাড়ির ময়লা নিতে কোনো টাকা নেওয়া হবে না।’ মাসুদ পারভেজ আকন্দ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি না হয়েও সব সময় জনগণের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। সামনেও তাই করব। এবার দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে পারলে কাজ করার বেশি সুযোগ থাকে। কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে ভোটারদের সব দাবি পূরণ করব।’

বিএনপির প্রার্থী হামিদুল হক বলেন, ‘দল নির্বাচনে অংশ নিলে এবং আমাকে মনোনীত করলে নির্বাচন করব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে মাদক নির্মূল করব। রাস্তাঘাটসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাকে গুরুত্ব দেব। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে অংশ নিয়ে লাভ কী?’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা