kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

মাঠে আ. লীগের ৫ বিএনপির দুজন

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ২০

শাখাওয়াত হোসাইন   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাঠে আ. লীগের ৫ বিএনপির দুজন

নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। আসন্ন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে নিজেদের মতো করে মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

দলীয় সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি অনেকটা প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অন্যদিকে কৌশলী প্রচারে মনোযোগ বেশি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের। দলীয় সমর্থন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা। আর বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দুই নেতার নামই আসছে ঘুরেফিরে। সম্প্রতি দুই দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

জানা যায়, বনানী ও গুলশান থানার একাংশ নিয়ে ২০ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। তবে ওয়ার্ডের বেশির ভাগ অংশ পড়েছে বনানী থানায়। নিকেতন, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ী, মহাখালী ওয়্যারলেস গেট, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, আমতলা, সাততলা বস্তি ও কড়াইল বস্তির একাংশ পড়েছে এ ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডটিতে গত বছর ভোটার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৫২ হাজারের মতো। তবে এখন ভোটার অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে দুই বস্তিতে আছে প্রায় ৪০ হাজারের মতো ভোট। বস্তিবাসীর ভোটে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হয় বলে পুরো ওয়ার্ডে জনশ্রুতি আছে। সম্ভাব্য সব প্রার্থীর তাই বিশেষ নজর বস্তির দিকে। গত নির্বাচনের পর সাততলা ও কড়াইল বস্তির মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বেশ আশ্বাস মিলেছিল। কিন্তু সে বিষয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ আছে। বর্ষা মৌসুমজুড়ে সাততলা বস্তিতে ছিল ময়লা পানি ও তীব্র দুর্গন্ধ। বস্তির বাইরে নর্দমা ও রাস্তার উন্নয়নকাজ হলেও তা নিয়ে জনমনে আছে অসন্তোষ। কাজে ধীরগতি এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিরূপ মনোভাব রয়েছে ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে।

ওয়্যারলেস গেট এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান পেশায় শিক্ষক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উন্নয়নের নামে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহাখালী কাঁচাবাজার পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী করে রেখেছিল দীর্ঘদিন। গাড়ি তো দূরের কথা, ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলাও বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। এ ছাড়া মহাখালী এলাকার বিভিন্ন রাস্তা থাকে হকারের দখলে।’

জানা গেছে, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছির আসন্ন নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হতে চান। নাছির নিজেকে বনানী থানা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হিসেবে দাবি করেন। তবে তাঁর ওই দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বনানী থানা ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. নাছির এলাকায় বেশ প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হতে চান তিনি।

বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসীমুদ্দীনও এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চান দলের সমর্থনে। মুক্তিযোদ্ধা জসীমুদ্দীন ছয় দফা আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে বৃহত্তর গুলশান থানা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই নেতার হয়ে প্রচার চালিয়েছেন স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী।

২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলামও দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা এই নেতা গত নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন।

একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হতে চান। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মান্নান মুক্তিযুদ্ধ এবং ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান দুলালও দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক। তিনিও মাঠ গোছানো শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সমর্থনপ্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে এলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো নীরব। বিএনপি নেতা হাবিবুল্লাহ হবি ও মিজানুর রহমান বাচ্চু ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এই দুজন কেন্দ্রীয় ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ছাড়াও নীরবে নির্বাচনের মাঠ গোছানোর কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও।

বর্তমান কাউন্সিলর মো. নাছির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছি। এবারও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে এলাকাবাসীর সেবা করতে চাই।’

বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসীমুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা জীবন আওয়ামী রাজনীতি করেছি। ছয় দফা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাপরবর্তী সময়েও দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে কাজ করেছি। এবার কাউন্সিলর প্রার্থী হব দল চাইলে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা