kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিসিবিতে আয়োজন

সিরামিক এক্সপোতে সম্ভাবনার বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরামিক এক্সপোতে সম্ভাবনার বার্তা

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল সিরামিক মেলার উদ্বোধন শেষে স্টল ঘুরে দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে সিরামিক খাত ক্রমেই অবস্থান সুসংহত করে চলেছে। ৫০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য। অমিত সম্ভাবনাময় এই খাতকে আরো এগিয়ে নিতে তৎপর রয়েছেন দেশের সিরামিক শিল্পসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপো-২০১৯। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে ২০টি দেশের ১২০টি প্রতিষ্ঠান।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও মহাসচিব ইরফান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

প্রদর্শনী শুরুর দিনই জমে উঠেছে সিরামিক এক্সপো। গতকাল দুপুরের দিকে আইসিসিবিতে গিয়ে দেখা গেছে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও ক্রেতার ভিড়। প্রদর্শনী হলের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে সিরামিক কম্পানি শেলটেকের বিশাল প্যাভিলিয়ন। প্যাভিলিয়নে ঢুকতেই দেখা হয় দেশের বস্ত্র ও আবাসন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী কুতুবউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘সিরামিক আমাদের সম্ভাবনাময় একটি শিল্প খাত। দেশের রপ্তানি পণ্যের বাজারে তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের পাশাপাশি এটি দ্রুতই শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেবে। আর তেমন প্রত্যাশা থেকেই শেলটেক সম্প্রতি রাজধানীর বাইরে একটি অত্যাধুনিক সিরামিক টাইলস কারখানা গড়ে তুলেছে।’

বাংলাদেশে সিরামিকের বিপুল সম্ভাবনার কথা বললেন আকিজ সিরামিকের পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলমও। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের সিরামিক শিল্প খাতে বিনিয়োগ সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার বেশি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিশেষ অবস্থান করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় সাত কোটি ডলার।’ একই সঙ্গে কিছু

প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের সিরামিক শিল্পের ৮০ শতাংশের বেশি কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় অতিমাত্রায় শুল্ক কর দিতে হয়। এই শিল্পের বিকাশের স্বার্থেই উদ্যোক্তাদের শুল্ক হারে ছাড় দেওয়া দরকার।’

প্রদর্শনীতে স্টল দিয়েছে সিরামিক শিল্পসংশ্লিষ্ট অত্যাধুনিক কনভেয়ার বেল্ট তৈরির ইতালীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল’। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধি জিয়ান মার্কো টিনটোরি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে এই সিরামিক শিল্প। আমার বিশ্বাস, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আওতায় গতিশীল ও টেকসই শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের সিরামিক খাত দ্রুতই শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যাবে। পরিণত হবে অন্যতম একটি রপ্তানি পণ্যে।’

বিসিএমইএ মহাসচিব ও ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য বর্তমানে ৫০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মোট রপ্তানির ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে ও ৩০ শতাংশ যায় ইউরোপে। সিরামিকের আন্তর্জাতিক বাজার দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি।’

আয়োজকরা জানান, সিরামিক এক্সপোতে ২০টি দেশের ১২০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫০টি ব্রান্ড নিয়ে অংশ নিয়েছে। এসেছেন তিন শ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও প্রায় পাঁচ শ বায়ার। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা