kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২০

রেমিট্যান্সে শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ

অভিবাসীর সংখ্যায় বিশ্বে ষষ্ঠ ► রাষ্ট্রহীনদের আশ্রয়দাতাদের শীর্ষে

মেহেদী হাসান   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেমিট্যান্সে শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসেবে থাকা ব্যক্তির সংখ্যায় শীর্ষ ষষ্ঠ স্থানে আছে বাংলাদেশ। রেমিট্যান্স গ্রহীতার তালিকায় চার বছর আগেও বাংলাদেশ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছিটকে গেছে। বর্তমান বিশ্বে ‘স্টেটলেস’ (রাষ্ট্রহীন) মানুষকে আশ্রয়দাতার শীর্ষস্থানটি বাংলাদেশের দখলে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২০’ ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের শেষ দিকে এসে বিশ্বে অভিবাসীদের উৎস দেশের তালিকায় শীর্ষে আছে ভারত। এরপর যথাক্রমে মেক্সিকো, চীন, রাশিয়া, সিরিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ২০১০ সালে শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স গ্রহীতার তালিকায় নবম স্থানে ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স গ্রহীতার তালিকার দশম স্থানে নেমে আসে। ওই বছর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশগুলোর শীর্ষ ১০-এর তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।

‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২০’-এর তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়লেও অন্য দেশগুলোতে এর চেয়েও বেশি বেড়েছে। ২০০৫ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স (২৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার) পেয়েছিল চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মেক্সিকো (২২ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার) এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারত (২২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার)। ২০১০ সাল থেকেই ভারত সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০১০ সালে ভারত ৫৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫ সালে ৬৮ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ২০১৮ সালে ৭৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।

২০১৮ সালে শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স গ্রহীতা রাষ্ট্রের তালিকায় ঢুকেছে ভিয়েতনাম (১৫ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

প্রতিবেদনে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে যে ২০ অভিবাসন করিডরের তালিকা দেওয়া হয়েছে তাতে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ-ভারত। এ ছাড়া ১৯তম স্থানে আছে বাংলাদেশ-সৌদি আরব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে স্বল্প মেয়াদে কর্মী হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর অভিবাসীদের যাওয়ার তথ্যও রয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ‘স্টেটলেস’ (রাষ্ট্রহীন) ব্যক্তির বসবাস এখন বাংলাদেশে। ২০১৮ সালের একটি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯ লাখ ছয় হাজার ‘রাষ্ট্রহীন’ ব্যক্তি বাংলাদেশে বসবাস করছে। তারা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা। তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। রোহিঙ্গাদের নিজ বসতভূমি মিয়ানমারেই ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ কৌশলগত কারণে তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় তাদের যতটা সম্ভব মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

‘রাষ্ট্রহীন’ ব্যক্তির বসতভূমি হিসেবে তৃতীয় শীর্ষস্থানে আছে মিয়ানমার। আইওএমের প্রতিবেদনে সেখানে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ছয় লাখ ২০ হাজার। তারাও মূলত রোহিঙ্গা। মিয়ানমার ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের রাষ্ট্রহীন করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেনোসাইড, গণহত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও একঘরে করার মাধ্যমে তাদের দেশছাড়া করে। এখনো সেখানে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আছে বলে ধারণা করা হয়।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ওই রোহিঙ্গারাও মিয়ানমারে জেনোসাইডের শিকার হওয়ার বড় ঝুঁকিতে আছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশ, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, সুদান, তাঞ্জানিয়া ও উগান্ডায় বিশ্বের মোট ‘শরণার্থী’র ৩৩ শতাংশ অবস্থান করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা