kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

৪৫ দিনের পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে জোর তৎপরতা

এম সায়েম টিপু   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৪৫ দিনের পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে জোর তৎপরতা

দেশে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে এবং এলসি করার পর দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে তা দিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এর বাইরে আরো দেড় মাসের মজুদ গড়তে দুই লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে চায় সরকার। যা দিয়ে আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের পেঁয়াজের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো যাবে। অর্থাৎ দেড় মাসে সারা দেশে পেঁয়াজের চাহিদার পুরোটাই আমদানি করাবে সরকার। আমদানি করা বাড়তি পেঁয়াজ টিসিবির বাইরে জেলা প্রশাসকদের নিজস্ব ডিলার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ জন্য বন্দর থেকে সরাসরি জেলায় জেলায় পেঁয়াজ পৌঁছে যাবে।

গতকাল বুধবার দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপ। সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বাড়তি পেঁয়াজ আমদানির জন্য দ্রুত এলসি খোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে সরকারের অনুরোধে এই তিন প্রতিষ্ঠান যে পেঁয়াজ আমদানি ও এলসি করেছে, এর বাইরে বাড়তি মজুদ হিসেবে এই দুই লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে এরই মধ্যে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে এগুলো দিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। দেশে প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা ছয় হাজার টন। আর এরই মধ্যে এলসি করা পেঁয়াজ প্রতিদিন গড়ে দেশে ঢুকবে ১০ হাজার টন। সেই হিসাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। এর পরও সরকার আগাম নিরাপত্তা হিসেবে আরো ৪৫ দিনের জন্য (প্রতিদিন ছয় হাজার টন হিসেবে) আরো দুই লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে।

সূত্র মতে, নতুন করে আসা এই পেঁয়াজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির বাইরে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে নায্যমূল্যে বিক্রি করবে। ডিসিদের নিজস্ব ডিলারদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় লালসালুযুক্ত ট্রাকে করে এসব পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। এসব পেঁয়াজ যাতে সময়মতো বন্দরে ভিড়তে পারে, সে জন্য বন্দরে নির্দিষ্ট জেটির ব্যবস্থা রাখা হবে। সেই জেটি থেকেই সরাসরি জেলা প্রশাসকদের কাছে পৌঁছে যাবে পেঁয়াজ।

জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আজ মেঘনা গ্রুপের ৫০০ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম  বন্দরে পৌঁছবে। আর আগামীকাল শুক্রবার সিটি গ্রুপের আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ একই বন্দরে আসবে।

জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ ইকবাল কালের কণ্ঠকে বলেন, মেঘনা গ্রুপ এরই মধ্যে এক হাজার ৭০০ টন পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার আরো প্রায় ৫০০ টন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। তিনি জানান, তাঁরা সরকারের পরামর্শে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করেছেন। গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁদের আরো ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আনার পরামর্শ দিয়েছেন। সে হিসাবে তাঁরা মোট ২০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করবেন।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, সিটি গ্রুপ বাজারে স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত নিয়মিত পেঁয়াজ আমদানি করবে। এগুলো সরকারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিসিবির মাধ্যমে সরবরাহ করবে তারা। তিনি জানান, তুরস্ক থেকে দুই হাজার ৫৫৬ টন পেঁয়াজ আসছে। এগুলো আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে ২৫ টন পেঁয়াজ উড়োজাহাজে করে নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, তাঁরা প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে টিসিবির কাছে হস্তান্তর করছেন। টিসিবি ন্যায্যমূল্যে এসব পেঁয়াজ বিক্রি করছে।

এস আলম গ্রুপের এলসি করা পেঁয়াজ জাহাজে করে এখনো দেশে পৌঁছেনি। তবে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বিমানে করে ৭০০ টন পেঁয়াজ এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারের অনুরোধে পেঁয়াজের বেশির ভাগই এ প্রতিষ্ঠান আমদানি করছে। জানুয়ারির প্রথম ভাগে জাহাজে করে তাদের পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল প্রতিষ্ঠানটিকে আরো পেঁয়াজ আনতে নতুন করে এলসি করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক কাজী সালাউদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়। সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে সবাই সরকারকে আশ্বাস দিয়েছেন বাজারে সংকট কাটাতে তাঁরা পর্যাপ্ত আমদানি করবেন।’

কাজী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের জন্য এলসি খুলেছে। এগুলো নিয়মিত জাহাজীকরণ হচ্ছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে উড়োজাহাজে ৭০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। আগামী ১৫-২০  জানুয়ারির মধ্যে  আরো ১০ হাজার টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা