kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

ভারতের মন্ত্রিসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অনুমোদন

বাংলাদেশ, পাকিস্তান আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানই লক্ষ্য

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের মন্ত্রিসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অনুমোদন

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে গতকাল বুধবার অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে শরণার্থী হিসেবে যাওয়া মুসলমান বাদে ছয়টি ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইন পাস করতে চায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। বাকি ছয়টি ধর্ম হচ্ছে হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি। প্রতিবেশী দেশ থেকে ২০১৪ সালের আগে যাওয়া এসব ধর্মাবলম্বী লোকজনকে নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত।

এই বিল আগামী সপ্তাহেই ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় তোলা হবে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন লোকসভায় বিলটি সহজেই পাস হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। বিজেপি আশা করছে, আঞ্চলিক দলগুলোর সাহায্য নিয়ে রাজ্যসভায় উতরে যাবে প্রস্তাবটি। 

ওই বিলের গুরুত্ব সম্পর্কে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত মঙ্গলবার বিজেপি এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই বিল অগ্রাধিকার পাবে। এই বিল ঠিক জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার জন্য ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’ রাজনাথ বলেন, ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। প্রতিবেশী ধর্মান্ধ দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে, তারা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ছয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ, যা দেশের সর্বধর্ম সমন্বয়কে প্রমাণ করে।’

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের লক্ষ্য, এই ছয়টি সম্প্রদায়কে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা। এই বিলে নির্বাচিত বিভাগগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের ছাড় দেওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে প্রণীত আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী সপ্তাহে বিলটি লোকসভায় উত্থাপন করবেন।

বিরোধীরা মুসলমানদের বাদ দিয়ে করা এই বিলকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতিবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে।

বিলটি লোকসভায় সহজেই পাস হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রাজ্যসভায়, যেখানে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, সেখানে এই বিল পাস করানো কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেননা কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, বাম এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল এই বিলের বিরোধিতা করেছে। তবে রাজ্যসভায় ভোটাভুটির সময় এআইএডিএমকের মতো দলগুলো ঠিক কোন দিকে থাকবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, বিজেপি তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসার পরই আবারও এই বিল নিয়ে এগোতে শুরু করেছে।

এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসেও এই বিল লোকসভায় তুলেছিল বিজেপি। তবে সেবার তাদের জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) এক সহযোগী দল আসাম গণপরিষদ (এজিপি) এই বিলটির বিরোধিতা করে। সেবার এই বিল লোকসভায়ই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এরপর এজিপিও তাদের পুরনো জোটে ফিরে আসে। তবে এবার ডিগবাজি খাওয়ার কথা জানিয়েছে এজিপি। তাদের ভাষ্য, ‘লাখ লাখ অমুসলিমকে দেশ থেকে বের করে দিতে পারি না। আর বাংলাদেশও তাদের গ্রহণ করবে না। কাজেই আমাদের মধ্যস্থতার একটা পথ বের করতে হবে।’  

তবে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দলের মতে, এই বিল অসাংবিধানিক। তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের বক্তব্য, ‘আমরা নাগরিকতা (সংশোধনী) বিলের বিরুদ্ধে। এটি সংবিধানবিরোধী। এনআরসি নিয়ে যে পরিমাণে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই সরকার এই বিল আনার প্রস্তুতি করছে।’ অন্যদিকে মিজোরামের রাজ্যসভা সদস্য রোনাল্ড লাসও বলেছেন যে ভারতবর্ষে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি অনৈতিক। সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা