kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

জামিন আবেদনের শুনানি আজ

খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আজ দাখিল নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আজ দাখিল নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নতুন করে সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে এই নতুন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়াকে চেয়ারম্যান করে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন ডা. জিলন মিয়া। 

দায়িত্ব পাওয়ার পরই এই বোর্ড সদস্যরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে খালেদার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে গতকাল বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত এই মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট প্রস্তুত হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রস্তুত করতে বোর্ডের সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে রিপোর্ট দাখিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের কাছে সময় চাইতে পারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে রিপোর্ট প্রস্তুত হলে তা আদালতে পাঠানো হতে পারে। তবে সে সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।  

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় করা খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি হবে। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকার সাত নম্বরে রয়েছে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন। এই জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় গতকাল রাত থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এলাকায় ব্যাপক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নামে এই ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।

বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া গত রাত ১০টায় কালের কণ্ঠকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কপি পাওয়া গেছে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায়। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য একটি নতুন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নতুন মেডিক্যাল বোর্ডে নতুন সদস্যের পাশাপাশি আগের মেডিক্যাল বোর্ডের একাধিক সদস্যকে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই এই কমিটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রেসপেরেটরি, ডায়াবেটিসসহ কিছু কিছু রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটু সময় লাগতে পারে। এখন (রাত ১০টা) পর্যন্ত মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট আমার হাতে আসেনি। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সকালে পেলেও আদালতে পাঠানো যাবে। অন্যথায় আদালতের কাছে সময় চাইতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গত ২৮ নভেম্বর এক আদেশে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে বিএসএমএমইউ ভিসিকে নির্দেশ দেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে বলা হয় ওই নির্দেশনায়। একই সঙ্গে গত ৭ অক্টোবর গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টও দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের ওই আদেশের কপি গত ২ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ ভিসির কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু গতকাল রাত পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট ভিসির কোনো জবাব পাননি বলে জানা গেছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছর ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট গত ৩১ জুলাই জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর আপিল করেন খালেদা জিয়া। এই আবেদনের ওপর গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগে শুনানি হয়। এই শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৭ অক্টোবর একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এই মেডিক্যাল বোর্ড ৩০ অক্টোবর রিপোর্ট দেয়। তিনি বলেন, এই বোর্ড বলেছে, খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা হচ্ছে তাতে তিনি ভালো হচ্ছেন না। তাঁর আরো ভালো চিকিৎসা দরকার। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নতুন মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। এই নতুন মেডিক্যাল মোর্ডের রিপোর্ট ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গত ৭ অক্টোবর গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টও দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এ পর্যন্ত দুটি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) তাঁর ১৭ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল আপিল বিভাগে এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছর সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন। ওই দুই মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা