kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

১৪ বছর পর আজ সম্মেলন

সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন কারা

সিলেট অফিস   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন কারা

সিলেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে নগরী সেজেছে বিশেষ সাজে। শহরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে দলীয় প্রতীক নৌকাসদৃশ বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রায় ১৪ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ নিয়ে উচ্ছ্বাস যেমন আছে, পাশাপাশি এই সম্মেলনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব বাছাই করতে পারবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তাও। কাউন্সিলরদের ভোটে, সমঝোতার মাধ্যমে, নাকি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে আসবে কমিটি—এ নিয়ে দোলাচলে আছেন সবাই।

এদিকে দলের পদ পেতে পদপ্রত্যাশীরা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। পুরনো নেতৃত্বের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরছেন তাঁরা। এ নিয়ে রয়েছে উত্তেজনাও। তবে শেষ পর্যন্ত সম্মেলন সুন্দরভাবে শেষ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আজ সিলেটে আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরই মধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। মাদরাসা মাঠের দুই-তৃতীয়াংশ জায়গাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে নৌকার আদলে। মঞ্চে ২০০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্মেলনের আশপাশ ছেয়ে গেছে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৫ সালে। তবে দলীয় কোন্দলের কারণে তখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা যায়নি। তিন বছর মেয়াদের ওই কমিটি ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। ওই বছর ২১ নভেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সে হিসাবে ১৪ বছর পর হচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

কারা আসছেন নতুন কমিটিতে?

সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এখন একটাই প্রশ্ন, কারা আসছেন নতুন কমিটিতে? বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন—এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। নতুন নেতৃত্ব, নাকি আগের চেনা মুখই থাকছে, আংশিক পরিবর্তন নাকি মিলেমেশে কমিটি? এসব হিসাব মেলাতে নেতাকর্মীরা ব্যস্ত। এ অবস্থায় কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে সম্মেলন হলেও নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের দিকে গড়াবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন শুরু থেকেই বলে আসছেন, ‘সম্মেলনের মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে। কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের স্থান দেওয়া হবে না।’

আবার কারো কারো মতে, দলকে আরো গোছাতে, জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে নতুন ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের দিকেই কেন্দ্রের নজর। এটি হলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত সব কিছু নির্ভর করছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চারজনই এবারও প্রার্থী। তবে চারজনেরই শেষ কথা, নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চূড়ান্ত।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। নেত্রী যাঁকে যোগ্য মনে করবেন তাঁকেই নেতৃেত্ব আনবেন।’ একই বক্তব্য দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। বিগত দিনে নেত্রী যেভাবে বলেছেন তা মেনে নিয়েছি। এখনো সিলেট জেলা ও মহানগরে নেত্রী যাঁকেই মনোনীত করবেন তাঁকেই সাদরে গ্রহণ করব।’

দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় অন্তত ১৪ জন এবং মহানগরে অন্তত ১২ জন নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী। যদি সম্মেলন হয়, তাহলে তাঁদের অনেকে প্রর্থিতা ঘোষণা করবেন। এ কারণে সবাই এখন দলের কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগ

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুত্ফুর রহমান বয়সের ভারে অনেকটা ন্যুব্জ। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি আর আগের মতো সময় দিতে পারেন না। এ অবস্থায় সভাপতি পদে তাঁর আসার সম্ভাবনা কম। তবে লুত্ফুর রহমানের অনুসারীরা বলছেন, তিনি এবারও সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন। এর বাইরে সভাপতি পদে আসতে আগ্রহী দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, বর্তমান সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সহসভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ এবং সহসভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদও সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাঁর অনুসারীরা ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে ‘ইমরান আহমদকে সভাপতি দেখতে চাই’ এমন প্রচারণা চালাচ্ছে।

সভাপতি পদের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন দলের বর্তমান সহসভাপতি শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সুজাত আলী রফিক ও নাছির উদ্দিন খান, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল, উপদপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী এবং সদস্য শামসুল ইসলাম। এঁরা সবাই সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হলে দলের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়াতে নিরন্তর কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগ

জেলা আওয়ামী লীগের চেয়ে মহানগর আওয়ামী লীগে পদপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত ডজনখানেক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। প্রত্যেকে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সূত্র মতে, বর্তমান সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে সভাপতি করা হতে পারে। অথবা বর্তমান সভাপতিকে আবারও একই পদে রেখে সাধারণ সম্পাদককে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে কেউ কেউ জানিয়েছেন। তবে দলের সভাপতি শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে প্রায় সব নেতাকর্মী জানিয়েছেন। এ দুজনের বাইরে আরো বেশ কজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম সভাপতি পদে আলোচিত হচ্ছে।

মহানগরের বর্তমান কমিটির সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের পাশাপাশি সভাপতি পদ পেতে আগ্রহী দলের বর্তমান সহসভাপতি মফুর আলী, রাজ উদ্দিন ও আবদুল খালিক। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, জাকির হোসেন ও ফয়জুর আনোয়ার আলাওর, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ টি এম হাসান জেবুল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাশ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান ও সদস্য সালেহ আহমদ সেলিম।

ইলেকশন না সিলেকশন : ইলেকশন (নির্বাচন) নাকি সিলেকশন (বাছাই)-কোন পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন নেতাকর্মীরা। যদিও বেশির ভাগ নেতাকর্মীর ধারণা, শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে সিলেকশন ভিত্তিতেই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদ নির্ধারিত হতে পারে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। নির্বাচন হতে পারে—এমন সম্ভাবনা ধরে নিয়েই তাঁরা অগ্রসর হচ্ছেন।

প্রায় ১৪ বছর পর সম্মেলন হওয়ায় এই সময়ের মধ্যে আগের তরুণ নেতারাও এখন অনেকটা পরিপক্ব। ফলে প্রবীণদের পাশাপাশি নবীনরাও আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে আসতে চাইছেন। শেষ পর্যন্ত সব কিছুর জন্য আজ সবার চোখ থাকবে সম্মেলনের দিকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা