kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ প্রায় বন্ধ

সাময়িক অনুমতিপত্র দেওয়ার উদ্যোগ

পার্থ সারথি দাস   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাময়িক অনুমতিপত্র দেওয়ার উদ্যোগ

নতুন স্মার্ট কার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না হওয়ায় সব প্রক্রিয়া শেষ করেও দেশের প্রায় আট লাখ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় বিপর্যয় রোধে বিআরটিএ লাইসেন্সের পরিবর্তে নতুন সাময়িক অনুমতিপত্র দেওয়া শুরু করবে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় থেকে ওই অনুমতিপত্র সরবরাহের জন্য সংস্থার বিভিন্ন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকদের প্রতি নির্দেশনা জারি করা হবে। সাময়িক ওই অনুমতিপত্র দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে, পুলিশ হয়রানি করবে না।

এদিকে ভারী গাড়ির লাইসেন্স সহজে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ বিআরটিএর কাছে দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে এ দাবিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাব তৈরি করে তা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বিআরটিএ।

এ ছাড়া ফিটনেস সনদ দেশের যেকোনো স্থানের বিআরটিএ কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিআরটিএর কার্যালয়ে চাপ কমানোর জন্য সংস্থাটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বুধবার এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বিআরটিএ সদর দপ্তর থেকে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান গতকাল দুপুরে তাঁর দপ্তরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে

 এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন সড়ক আইনের কিছু ধারা প্রয়োগে শৈথিল্য দেখানো হবে। ফিটনেসসংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা মওকুফের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। সেটির প্রস্তাবও আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি। তারপর তা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে।’

বিআরটিএর চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু একটা সমঝোতার মাধ্যমে এগোতে চাই, সেহেতু আইনের কিছু ধারার কঠোর প্রয়োগ হবে না।’

বিআরটিএর হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৪২ লাখ ১৭ হাজার ৫২৩। এসব গাড়ির চালকদের মধ্যে লাইসেন্স আছে ৩৬ লাখ দুই হাজার ৪১৯ জনের। এর মধ্যে ভারী গাড়ির ক্ষেত্রে একটি গাড়ির জন্য একাধিক চালক রাখা বাধ্যতামূলক। দুই লাখ ৬১ হাজার ৮২১টি ভারী গাড়ির বিপরীতে ভারী লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ৭২০টি। বাকি ভারী গাড়ি চালানো হচ্ছে হালকা বা মধ্যম শ্রেণির লাইসেন্সে।

জানা গেছে, চালকরা সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করার পরও স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না দেড় বছর ধরে। বিদেশে চাকরি বা এ ধরনের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এ কার্ড সরবরাহ করতে পারছে না বিআরটিএ। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সব পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর লাইসেন্স সরবরাহের জন্য প্রথমে তিন মাস সময় নেওয়া হয়। কিন্তু এরপর আবার ছয় মাস সময় নেওয়া হয়। এভাবে দফায় দফায় সময় নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু লাইসেন্স বা স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করতে পারছে না বিআরটিএ।

গতকাল বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে গেলে জানা যায়, দিনে গড়ে কমপক্ষে দেড় হাজার ব্যক্তি লাইসেন্স নিতে আসে, কিন্তু পাচ্ছে মাত্র ২০ জন। বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয় থেকে গড়ে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ লাইসেন্স। প্রতি কার্যদিবসে গড়ে চার হাজার স্মার্ট কার্ড সরবরাহের কথা থাকলেও সেখানে গত মাসে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়েছে এক হাজার ৯৪২টি।

২০১৬ সালে পাঁচ বছরে ১৫ লাখ লাইসেন্স সরবরাহের জন্য টাইগার আইটি, বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল বিআরটিএ। ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ থাকলেও তার আগেই অতিরিক্ত চাহিদার ফলে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৮টি কার্ড সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ৬২ হাজার ৫৭২টি কার্ড সরবরাহ বাকি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

সীমিত কার্ড থাকায় তাই জরুরি ছাড়া তা সরবরাহ করছে না বিআরটিএ। এ অবস্থায় বিআরটিএ নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, লাইসেন্সের ধরন, লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভাব্য সময়—এসব তথ্যসহ বাংলা ও ইংরেজিতে নতুন অস্থায়ী অনুমতিপত্র সরবরাহ করবে বিআরটিএ।

জানা গেছে, নতুন করে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের জন্য দরপত্র গত ১০ জুন আহ্বান করে বিআরটিএ। গত ৯ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে আইবিসিএস ও এসইএলপি, লজিক ফোরাম ও এমএসপি এবং পিএনএমবি ও বাবর দর প্রস্তাব জমা দেয়। যোগ্য বিবেচিত হয় আইবিসিএস ও এসইএলপি। তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো, অযোগ্যতাসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে বিআরটিএ ও মন্ত্রণালয়ের কাছে। অভিযোগ যাচাইয়ের পর ফ্রান্সের এসইএলপিকে যোগ্য বিবেচনা করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পর আবার দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব খাটনোর অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির বিষয়ে পর্যালোচনা করে। চারটি অভিযোগসহ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এ কমিটি। জানা গেছে, জবাব চাওয়া হবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা